■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। ফলে তিনি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার।
কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে এক ভিডিও বার্তায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দাবি করেন, গণমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি সত্য নয়। আমার মনোনয়নপত্র নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ভিডিও চলাকালে তিনি তার আইনজীবীকে ফোনে যুক্ত করেন। আইনজীবী এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ব্যক্তি হিসেবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর কোনো ঋণখেলাপি নেই। তার কোম্পানির বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। এ কারণে চেম্বার আদালত আগের স্টে অর্ডারটি স্থগিত করেছেন। এ বিষয়ে রবিবার আপিল করা হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, স্টে অর্ডার স্থগিত হওয়া মানে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাওয়া নয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, বিষয়টি আপিলে নিষ্পত্তি হবে। এ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।
এর আগে ঋণ খেলাপির তালিকায় কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ওই তালিকা তিন মাসের স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংক ৫ জানুয়ারি চেম্বার আদালতে আবেদন করে। আগামী ৮ সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে খেলাপি ঋণের তালিকায় তার নাম থেকে যাচ্ছে। এখন নির্বাচনে অংশ নিতে তার আইনগত জটিলতা তৈরি হলো।
এদিন আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুল্লাহ মামুন। কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী।
এর আগে ঋণখেলাপির তালিকায় থাকা কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ৩ জানুয়ারি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান। সেই সঙ্গে ওইদিন ৭৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্রও সেদিন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
