■ চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি ■
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৫২) সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় বিক্ষোভ শুরু করেছেন দলটির সমর্থক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল জীবননগর পৌর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত শামসুজ্জামান ডাবলুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কাছাকাছি একটি কক্ষে নেয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি’র সভাপতি, বিজিএমইএ’র সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার সকালে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমীনের উপস্থিতিতে জীবননগর থানার পুলিশ শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়।
এদিন বেলা ১১টার দিকে আবারো ঘটনাস্থলে আসেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি’র প্রার্থী শরীফুজ্জামান ডাবলু। তাদের উপস্থিতিতে নেতাকর্মীরা কিছুটা শান্ত হন। এরপর জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ‘ডাবলুর মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।’
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বলেন, ‘রাত ১২টা ১৬ মিনিটে ডাবলুকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি।’
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর স্বামীর মরদেহের অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী জেসমিন নাহার বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সেনাবাহিনী তাকে ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে।’
স্থানীয় শ্রমিক নেতা শফিকুল ইসলাম খোকা জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে ডাবলুর একটি ফার্মেসি রয়েছে। গতরাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে তাকে সেখান থেকে তুলে ৫০ মিটার দূরে বিএনপির দলীয় অফিসে নিয়ে যান সেনাসদস্যরা।
আজ মঙ্গলবার সকালে তিনি দলীয় অফিসের ওই কক্ষ সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেন, ‘এখানেই ডাবলু ভাইকে দুই ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
রুমের ভেতর পড়ে থাকা একটি কাপড়ের টুকরা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কাপড় মুখে ঢুকিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়।’
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেনা কর্মকর্তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা অভিযান চালিয়ে ডাবলুর কাছ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করেন।’
এসপি আরও বলেন, ‘তারা (সেনা কর্মকর্তা) আমাকে জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডাবলু অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি মূলত সেনা হেফাজতেই মারা গেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’
