■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
বিএনপিই সবার আগে সংস্কারের কথা বলেছে বলে জাতিসংঘের মহাসচিবকে জানিয়েছে দলটি। একইসঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার কথাও বলেছে তারা।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আমাদের বক্তব্যে যে-সব কথা এতদিন ধরে বলে এসেছি সেই একই কথা আজকেও বলেছি। আমরা বলেছি, সংস্কার অবশ্যই করতে হবে। কারণ, আমরাই (বিএনপি) সবার আগে সংস্কারের কথা বলেছি। কিন্তু সেই সংস্কার যত দ্রুত করা যায় ততই ভাল। অর্থাৎ আমরা বলেছি মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক যে সংস্কারগুলো আছে তা দ্রুত করে আগামী জাতীয় নির্বাচন শেষ করা। কারণ, সংস্কার যেহেতু একটি একটি চলমান প্রক্রিয়া তাই নতুন পার্লামেন্টের মাধ্যমে বাকি সংস্কার শেষ করতে হবে।’
শনিবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক করছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৈঠক শেষে বেরিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব এ কথা জানান।
এর আগে দুপুর ২টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এই গোলটেবিল বৈঠক শুরু হয়ে চলে বিকাল ৩টা পর্যন্ত।
বৈঠকে আগামী নির্বাচনের ‘টাইমফ্রেম’ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে নির্বাচনের টাইমফ্রেমের বিষয়ে কথা বলার কোনো প্রয়োজনই নেই। কারণ, সংস্কার তো সম্পূর্ণ আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সংস্কার কমিশনের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। তারা যা চাইছে, আমরা সব দিচ্ছি। ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে আমাদের একটা বৈঠকও হয়েছে। সুতরাং এই বৈঠকে এসব নিয়ে কথা বলার তো প্রশ্নেই ওঠে না। তাছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিবকে আমরা কোনো টাইমফ্রেম দিতে যাবো?’
আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জাতিসংঘের উদ্যোগে আজকে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছিল। সেখানে রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সংস্কার কমিটির প্রধান যারা তারাও ছিলেন। মূলত সংস্কারের বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে অবহিত করা হয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব উত্তরে কি বলেছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি এ ব্যাপারে কোনো কমেন্ট করেননি।’
নির্বাচনসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতিসংঘের তরফ থেকে বলা হয়েছে, এটা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আপনারা বসে রিফর্মস কী নেবেন, সেটা ঠিক করেন। উনি বাংলাদেশে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। পৃথিবীর মধ্যে একটা নজির সৃষ্টি করবে আগামী নির্বাচন, এমনটা উনি আশা করেছেন।’
তিনি বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সরকার আসবে। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন পৃথিবীতে নজির সৃষ্টি করবে।’
বৈঠকে সংস্কার, সুষ্ঠু নির্বাচন, টেকসই গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের কথা বলেছে জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে মৌলিক সংস্কারের ভিত্তি এই সরকারের সময়েই তৈরি করতে হবে এবং সব রাজনৈতিক দল মিলে একটি ঐকমত্য পোষণ করতে হবে জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে।
অন্য দলগুলো হল-নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন। বেলা ১টায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বৈঠক শুরু হয়।
জাতিসংঘ ঢাকা কার্যালয় আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন।
আরও উপস্থিত ছিলেন-অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ, সদস্য ড. ইফতেখারুজ্জামান ও বদিউল আলম মজুমদার।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস, ইউএনএইচসিআর এর আবাসিক প্রতিনিধি সুম্বুল রিজভী, আইএলও এর কান্ট্রি ডিরেক্টার, টুমো পুটিআইনেন, ডবি্লউএফপি এর আবাসিক প্রতিনিধি ডমিনিকো স্কেলপেনি, ইউএনডিপি এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, ডব্লিউএইচও এর আবাসিক প্রতিনিধি বর্ধন জং রানা, ইউএনওপিএস এর আবাসিক প্রতিনিধি সুধীর মুরলীধরন, আইওএম এর মিশন প্রধান ল্যানস বনেউ, ইউনেস্কোর প্রধান নির্বাহী পরিচালক ও ইউনিসেফের আবাসিক প্রতিনিধি।