■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
শুল্ক না কমিয়ে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালুর প্রতিবাদে বিটিআরসি ভবন ভাঙচুর করছে বিক্ষোভকারীরা। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মোবাইল ফোন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার অংশ হিসেবে এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীরা।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলছেন, ‘ওরা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়েছে। ইটপটকেল ছুঁড়ে মারছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করছি।’
হামলায় বিটিআরসির মসজিদের কাঁচ ভেঙে যায়। এমন সময় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্মচারীরা নামাজ পড়ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিক কেউ আহত হয়েছেন বলে জানা যায়নি।
তিনি বলেন, বিকাল ৫টার দিকে সেখানে সেনাবাহিনীর একাধিক দল এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে আটকের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা ১০-১২ জনকে আটক করেছি। হামলাকারীদের ধরতে এখনো অভিযান চলছে।”
সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ওসি বলেন, বিটিআরসি অফিসের সামনে এখন আর কেউ নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা মুঠোফোনের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গতকাল বুধবার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।
এনইআইআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করছিলেন মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবসায়ীরা, যারা নানা ‘অবৈধ রুটে কর ফাঁকি’ দিয়ে দেশে নিম্নমানের, ক্লোনড, ব্যবহৃত ও পুরনো ফোন দেশের বাজারে ঢোকাচ্ছেন বলে অভিযোগ সরকারের।
কর ফাঁকি বন্ধের পাশাপাশি নিম্নমানের ফোন দেশে ঢোকা বন্ধ করতে সরকার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে এনইআইআর পদ্ধতি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়।
এনইআইআর চালু হলে দেশে অবৈধ পথে আসা ফোনগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাবে অবৈধভাবে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা পুরনো ফোনের ব্যবসাও।
মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার পর কেবল সরকার অনুমোদিত বৈধ হ্যান্ডসেটই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারবে। তবে এনইআইআর চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে ব্যবহার হওয়া কোনো ফোনই বন্ধ হবে না।
আগের ঘোষণা অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন থেকে এনইআইআর চালুর ঘোষণা ছিল, যার প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।
গেল ৭ ডিসেম্বর বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও করেন মোবাইল ব্যবয়ীরা। প্রায় দিনভর সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেন।
পরে এনইআইআর চালুর দিনক্ষণ ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি করার ঘোষণা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
বিটিআরসির উপ-পরিচালক (মিডিয়া কমিউনিকেশন) জাকির হোসেন খান বলেন, “এরকম হামলা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। একটা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর এভাবে হামলা বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি। আর যে ব্যবসায়ীরা এই হামলা চালিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কিন্তু ভেতরে মিটিং চলছিল। এই সময় তারা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে বসেন।”
হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে বিটিআরসি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
