ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঘোষণা

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■ 

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে জয়ী ঘোষণা করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মো. নুরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

আদেশে নৌকা প্রতীক নিয়ে সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে মেয়র হিসেবে সরকারের গেজেট বাতিল করা হয়। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ইশরাক হোসেনের উপস্থিতিতে আদালতে রায় ঘোষণা করা হয়।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অগ্রহণযোগ্যতার অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন ও ফলাফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেছিলেন মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। 

মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়।

মামলার আরজিতে ইশরাক অভিযোগ করেন, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ছিলেন একজন মেয়র প্রার্থী। ইশরাক হোসেনের নির্বাচনী কর্মী, তাঁদের এজেন্টদের মারধর করা হয়। এ নিয়ে তখন গণমাধ্যমে প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি। বরং নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। নির্বাচনের দিন তাঁর এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয় ।

মামলায় ইশরাক আরও দাবি করেন, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি শেখ ফজলে নূর তাপস নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করে রঙিন পোস্টার লাগান। এ বিষয়ে ইশরাক নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও দিয়েছিলেন। এরপর ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি ইশরাক হোসেনের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন আওয়ামী লীগ ও তাঁদের সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা। তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত মাইক ভাঙচুর করা হয়।

মামলার আরজিতে ইশরাক হোসেন আরও দাবি করেন, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলসহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাঁর এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়।

মামলার আরজিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়।

ইশরাকের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অগ্রহণযোগ্যতার অভিযোগে আমরা নির্বাচন বাতিল চেয়ে মামলা করেছিলাম। তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণার আবেদন করেছিলাম। আদালত আজ আমাদের পক্ষে রায় দিলেন। ইসরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল বরাবর সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে আবেদন করতে হয়। মামলার পর পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করবেন ট্রাইব্যুনাল। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রায়ে খুশি না হলে ৩০ দিনের মধ্যে তিনি নির্বাচনি আপিল ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবেন। নির্বাচনি আপিল ট্রাইব্যুনাল ১২০ দিনের মধ্যে আপিলটি নিষ্পত্তি করবেন।

এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি, এটা হলো মূল বিজয়। আমি মেয়র হতে পারব কিনা বা শপথ নেব কিনা, সেটা সম্পূর্ণ দলীয় বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ফিরে আসুক। ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার পতনের পর সাধারণ মানুষ যে ন্যায়বিচার পায়, সেটার ধারা শুরু হচ্ছে বা শুরু হয়েছে। এই ধারাটা অব্যাহত থাকুক। বাংলাদেশের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে উত্তরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণে আরেক আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশন ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ভোটের গেজেট প্রকাশ করেন। এরপর থেকে তারা শপথ নিয়ে মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাদের মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত বছর ১৬ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক মেয়র আতিককে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। পরে তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। 

এদিকে সাবেক মেয়র তাপসের কোনো হদিস নেই। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেই দেশ ছেড়েছেন।

অন্যদিকে গত বছরের ১ অক্টোবর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীনের আদালত বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ঘোষণা করেন। চসিক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ফলাফল বাতিল চেয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেছিলেন বিএনপির এ নেতা।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। যদিও ওই সময় ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ করেছিলেন বিএনপির প্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

মেয়র হিসেবে শপথ নেব কি না, সেটা দলীয় বিষয়

এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ইকরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি, এটা হলো মূল বিজয়।

আমি মেয়র হতে পারব কি না বা শপথ নেব কি না, সেটা সম্পূর্ণ দলীয় বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ফিরে আসুক। ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার পতনের পর সাধারণ মানুষ যে ন্যায়বিচার পায়, সেটার ধারা শুরু হচ্ছে বা শুরু হয়েছে। এই ধারাটা অব্যাহত থাকুক। বাংলাদেশের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’

নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। সেই নির্বাচনে দিনদুপুরে ভোট ডাকাতি হয়েছিল। নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই আমরা অভিযোগ দিয়ে আসছিলাম।

তখন আমাদের প্রচারণাকে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তখনকার বিএনপির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিনা মামলায় গ্রেফতার করা হয়। আমাদের প্রচারণার মাইক ভাঙচুর করা হয়েছে। পোস্টা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। প্রচারণার শেষ পর্যায়ে আমার মিছিলে হামলা করে আমাদের অংসখ্য নেতাকর্মীদের মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে।

নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি ও ভোট কারচুপি করা হয়। আমরা তখন মামলা করেছিলাম। সব কিছু আইনগতভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *