বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী জামিনে মুক্ত

■ হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ■ 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন। রোববার সকাল ১০টায় হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল মান্নান শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে মাহদী হাসানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল বারী নোমান বলেন, জামিন যোগ্য অপরাধ হওয়ায় ২০০ টাকা বন্ডে তাকে জামিন প্রদান করেছেন আদালত। আমরা এ রায়ে আদালতের প্রতি সন্তুষ্ট।

এর আগে সকাল ৭টায় মাহদীকে আদালতে নেয় শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। সংক্ষিপ্ত শুনানির পর বিচারক জামিন মঞ্জুর করলে বৈষম্যবিরোধী নেতাকর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে উল্লাস প্রকাশ করেন। পরে মাহদী হাসান মুক্তি পেলে তাকে নিয়ে কারাগার থেকে মিছিল করে শহর প্রদক্ষিণ করেন নেতাকর্মীরা। 

শনিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে মাহদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। এসময় থানার মুল ফটক বন্ধ থাকায় বাইরে উত্তেজনা দেখা যায়। একপর্যায়ে নানা স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে থানার সামনে সেনা মোতায়েন করা হয়। 

মাহদী হাসান হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়। 

গত বৃহস্পতিবার রাতে জুলাই যোদ্ধা শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক নয়নকে আটক করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার দুপুরে তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় মাহদী হাসানের। ভিডিওতে তাকে ওসির উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?” 

একপর্যায়ে মাহদী হাসান বলেন, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?” এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

উত্তেজিত কণ্ঠে মাহদী বলেন, ‘আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছেন।

রোববার দুপুরে মাহদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে মাহদী হাসানকে তার বক্তব্য প্রদানের কারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না— সে বিষয়ে লিখিত জবাব আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ বরাবর দপ্তরের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মাহদী হাসান সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

এরপর বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় মাহদী তার বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে ভুলকে ভুল হিসেবে দেখার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *