𓂃✍︎ কুমিল্লা প্রতিনিধি 𓂃✍︎
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ১০ বছর পর তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।
সোমবার সকালে আদালতে হাজির হতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওই তিনজন ব্যক্তি হলেন তৎকালীন সময়ে কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক জাহাঙ্গীর জাহিদ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, তনু হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়ার পরই সোমবার ( ৬ এপ্রিল) ওই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে আদালতে লিখিত প্রতিবেদন দেন। এতে বিচারক সন্দেহভাজন ৩ জনের ডিএনএ করার নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আগেই তনুর ব্যবহারের কিছু কাপড় থেকে ৩ জন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। এগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আজ আদালত বলেছে, সন্দেহভাজন ৩ জনের ডিএনএ টেস্ট করতে। ওই ৩ জন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলেছেন আদালত।
এদিকে মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও সোমবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় তিনি বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন। মেয়ের হত্যার বিচার পাওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান বলেও জানান।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ইয়ার হোসেন বলেন, ‘দেশের অন্য অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার হলেও আমার মেয়ের মামলার বিচার এখনো হয়নি কেন—এই প্রশ্নের উত্তর চাই। গত ১০ বছর ধরে বিচার প্রত্যাশায় তনুর মাকে নিয়ে যেখানেই বলা হয়েছে, সেখানেই গিয়েছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকেও অবসর নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এক মাসের মধ্যে যদি আমার মেয়ের হত্যার বিচার না পাই, তাহলে আমি নিজের জীবন নিয়ে কী করব, তা ভাবতে বাধ্য হব। এভাবে আর বেঁচে থাকার কোনো মানে দেখি না।’
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপঝাড় এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাঁর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি শুরুতে থানা-পুলিশ, পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং পরবর্তী সময়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় তদন্ত করলেও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটির নথি সিআইডি থেকে পিবিআই সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। গত কয়েক বছরে একাধিকবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলার দায়িত্বে রয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
