ঢাবির আওয়ামীপন্থী অধ্যাপক জামাল উদ্দীন গ্রেফতার  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আওয়ামীপন্থী অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে রাজধানীর গুলিস্তান ঢাকা স্টেডিয়াম এলাকার সামনে একটি পদযাত্রা থেকে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে অপরাধে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এডিসি মো. রেজওয়ানুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দীন ঢাকা স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ঢাকা-টুঙ্গিপাড়া ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা ২০২৬’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন।

পুলিশের মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের হয়ে কাজ করছিলেন অধ্যাপক জামাল উদ্দীন। আজ ভোরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগের পক্ষে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন একটি শোভাযাত্রা আয়োজনের চেষ্টা করছিলেন। তিনি শোভাযাত্রার নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু শান্তি পদযাত্রা-২০২৬’। তিনি ১১ থেকে ১৬ মার্চ এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অনুমতির আবেদনও করেন। পাশাপাশি লিফলেট তৈরি করে প্রচার করছিলেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের হয়ে প্রচার চালানো, শোভাযাত্রা আয়োজন প্রচলিত আইনে ফৌজদারি অপরাধ। সে জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অধ্যাপক জামাল উদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের নীল দলের নেতা হিসেবে পরিচিত। ১১ ডিসেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া দেয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামীপন্থী নীল দলের শিক্ষক প্রফেসর জিনাত হুদা।

সেদিন দুপুরে আ ক ম জামাল ও জিনাত হুদাসহ কয়েকজন শিক্ষক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ যান। ক্যাম্পাসে তাদের প্রবেশের খবরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে জড়ো হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১টার দিকে ভবন থেকে বের হতেই ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়েরের নেতৃত্বে আ ক ম জামালকে ধাওয়া দেওয়া হয়। পরে তিনি দৌড়ে ভবনের নিচে রাস্তায় চলে যান। এ সময় সিঁড়িতে জুবায়ের শিক্ষক জামালকে ঝাপটে ধরে রাখতে চেষ্টা করে। বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তিও হয়। 

জামাল উদ্দিনদের দৌড়ে পালানোর একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে এবি জুবায়েরকে বলতে শোনা যায়, আপনি যেতে পারবেন না। আপনি শিক্ষার্থীদেরকে ব্রাশফায়ার করে মেলে ফেলার কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীদের খুন করার কথা বলছেন যারা, তারা কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় জুবায়ের উচ্চস্বরে সহপাঠীদের পুলিশকে কল করতে বলেন। একপর্যায়ে দৌড়ে জামাল উদ্দিনরা তাদের সঙ্গে থাকা প্রাইভেটকারে উঠে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। 

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *