■ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ■
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানায়, উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার মূল পদ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের পদে ফেরার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন ড. নিয়াজ আহমেদ খান।
সাক্ষাৎকালে শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে উপাচার্যের মতামত জানতে চান এবং এক্ষেত্রে তার সহযোগিতা কামনা করেন।
উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বৃহত্তর শিক্ষাখাতের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শিক্ষামন্ত্রী দেশের একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় উপাচার্যকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দুদিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন ঢাবি উপাচার্য।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতন হলে চাপের মুখে ১০ আগস্ট পদত্যাগ করেন সেই সরকারের নিয়োগকৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল। পদত্যাগপত্রে ‘ব্যক্তিগত কারণের’ কথা বলেছেন ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের এই অধ্যাপক। গত বছরের ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পাওয়ার পর ৪ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন মাকসুদ কামাল।
নিয়াজ আহমেদ খানের জন্ম ১৯৬৬ সালে চট্টগ্রামের লোহাগড়ার চুনতি গ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতক এবং ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর করার পর তিনি ইনস্টিটিউট অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর উপউপাচার্য ও উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক (গ্রেড-১) ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি অফ গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে এর সিনিয়র একাডেমিক অ্যাডভাইজার এবং সেন্টার অফ রিসোর্সেস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কুইন এলিজাবেথ হাউসে ‘দক্ষিণ এশীয় ফেলো’, ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রিসার্চ ফেলো’, মিসরের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি ইন কায়রোতে ‘ডিস্টিংগুইসড ভিজিটিং রিসার্চার’, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ইউমেনের ‘ডিস্টিংগুইসড ভিজিটিং প্রফেসর’, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ‘অধ্যাপক’, থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ‘এশিয়ান রিসার্চ ফেলো’ এবং অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভারসিটির ‘ভিজিটিং স্কলার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, আমেরিকান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, যুক্তরাজ্য সরকারের সোয়ানসি-বে রেশিয়াল ইকুইটি কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রকল্প ও কর্মসূচিতে উপদেষ্টা ও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক ড. খান মর্যাদাপূর্ণ কমনওয়েলথ বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যের ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মাননাসহ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে পোস্ট ডক্টোরাল গবেষণা সম্পাদন করেন। তিনি দুই শতাধিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ ও বইয়ের রচয়িতা। এ ছাড়াও তার তত্ত্বাবধানে বর্তমানে দেশে এবং দেশের বাইরের ১৭ জন পিএইচডি গবেষক এবং আটজন এমফিল গবেষক গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।
