■ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ■
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী জালাল আহমেদ ওরফে ‘জ্বালাময়ী জালাল’কে হত্যাচেষ্টার মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে আদালত এ আদেশ দেন।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের ৪৬২ নম্বর রুমের বাসিন্দা ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী রবিউল হককে টিউবলাইট দিয়ে বুকে আহত করে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাহবাগ থানায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করে। এরপর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জালাল আহমেদকে আদালতে পাঠানো হয়।
জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম ডিপার্টমেন্টের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালামীয় জালাল নামে পরিচিত।
ঘটনার পর রাতেই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে জালালকে পুলিশে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান ব্যক্তিগত রেষারেষির জেরে রুমমেট রবিউলকে টিউবলাইট দিয়ে আঘাত করেন জালাল। আহত রবিউল এখন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।
চিকিৎসাধীন রবিউল হক বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে জালাল রুমে এসে লাইট অন করে এবং শব্দ করতে থাকে। এতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। তখন আমি বলি, সকালে আমাকে লাইব্রেরিতে যেতে হবে অযথা শব্দ করবেন না, ঘুমে সমস্যা হচ্ছে। এতে তিনি রেগে গিয়ে আমাকে অবৈধ ও বহিরাগত বলে সম্বোধন করেন। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে আঘাত করা শুরু করেন। আমি কোনোরকমে নিজেকে রক্ষা করি।
রাত ১টার দিকে হল প্রাধ্যক্ষ ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে (জালাল) হল থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। তার ছাত্রত্ব বাতিলেরও ব্যবস্থা করা হবে।
আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, জালাল আহমেদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অভিযোগ ছিল। আগের প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে এই মুহূর্তে আমি বলতে পারছি না। তবে আজকের ঘটনার পর সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
এ ঘটনায় হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘আমি নিজেও দেখেছি হল প্রশাসন বিশেষ করে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ভালো হয় তারা যদি বুধবার কোনো এক সময়ে উপাচার্যের সঙ্গে বসে তাদের দাবি দাওয়া পদ্ধতিগতভাবে জানায়। তারপর তাদের দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’