■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা ফেরত চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে করা তার আপিল আবেদনের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে ইসি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পুরো কমিশন শুনানিতে রয়েছেন।
আপিলে প্রার্থিতা ফেরত পেয়ে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা জানালেন, নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ফুটবল মার্কা চাইবেন তিনি। আজ শনিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতার শুনানি শেষে এই কথা জানান তিনি।
প্রার্থিতা ফেরত পেয়ে তাসনিম জারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি যে মনোনয়নপত্র দিয়েছিলাম, বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মার্কার জন্য আবেদন করতে পারব। সেই প্রক্রিয়ায় আমাদের পছন্দ ফুটবল মার্কার জন্য আবেদন করব। তারপর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত থাকবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তাসনিম জারা। কিন্তু সমর্থক স্বাক্ষর জটিলতায় তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এর বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি।
কমিশন তাঁদের যুক্তি শুনেছেন জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, ‘তাঁরা আমাদের যুক্তিগুলো শুনেছেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আপনাদের জনসমর্থন নিয়েই আগামী নির্বাচনে লড়াই করতে পারব।’
তাসনিম জারা আরও বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে আসলে খুব একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। দেশে-বিদেশে সবাই অনেক শুভকামনা জানিয়েছেন, অনেক দোয়া করেছেন। যখন রাস্তায় মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলাম, অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন, কষ্ট পেয়েছেন, বলছেন, দোয়া করছেন। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
সাবেক এনসিপি নেত্রী আরও বলেন, ‘সবার জনসমর্থনেই ইনশা আল্লাহ আগামী নির্বাচনে আমি প্রার্থী হিসেবে লড়াই করতে পারব। সে জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এখানে আমার আইনজীবী টিম আছেন, তাঁদের ধন্যবাদ এবং দেশে-বিদেশে যে যেখান থেকে শুভকামনা জানিয়েছেন, দোয়া জানিয়েছেন, সকলকে অনেক ধন্যবাদ।’
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টির যোগদানের প্রশ্নে গত ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের তালিকা নিয়ে গড়মিলের কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিলে গিয়ে নিজের পক্ষে রায় পেলেন তাসনিম জারা।
এ ছাড়া কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাঁদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
নির্বাচন কমিশনে আজ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদনের শুনানি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ পূর্ণাঙ্গ কমিশন এই শুনানি গ্রহণ করবেন।
শুনানির প্রথম দিনেই ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল আবেদনের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই তাসনিম জারা ও হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করে জয়ী হন। ফলে তাঁদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথে আর কোনো বাধা রইল না।
ইসির পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে এই আপিল শুনানি চলবে। সূচি অনুযায়ী:
১১ জানুয়ারি (রোববার) : ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল।
১২ জানুয়ারি (সোমবার) : ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিল।
১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) : ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিল।
বাকি আবেদনগুলোর শুনানির তারিখ পরবর্তী সময়ে ইসি থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ২ হাজার ৫৬৮ মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৬টি বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সেই আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আগামী কয়েক দিনের শুনানিতে আরও অনেক প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
