ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ১৪ মার্চ

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■ 

আগামী ১ এপ্রিল পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ধরে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী ১৪ মার্চ অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

বরাবরের মতো এবারও আন্তঃনগর ট্রেনের ৭ দিনের অগ্রিম টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

রোববার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সভায় এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। ঈদের আগের ৭ দিনের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের আগে আন্তঃনগর ট্রেনের ২৪ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে ১৪ মার্চ; ২৫ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে ১৫ মার্চ; ২৬ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে ১৬ মার্চ; ২৭ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে ১৭ মার্চ; ২৮ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে ১৮ মার্চ; ২৯ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে ১৯ মার্চ এবং ৩০ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে ২০ মার্চ।

আরও জানানো হয়েছে, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ৩১ মার্চ, ১ ও ২ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হতে পারে। এছাড়া যাত্রী সাধারণের অনুরোধে ২৫ শতাংশ টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে। ঈদ যাত্রার অগ্রিম টিকিট একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবার কিনতে পারবেন এবং এক্ষেত্রে ৪টি আসন সংগ্রহ করতে পারবেন। কোনো টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।

আরও জানানো হয়েছে, চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ৩১ মার্চ, ১ ও ২ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হতে পারে। এছাড়া যাত্রী সাধারণের অনুরোধে নন এসি কোচের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে। ঈদ যাত্রার অগ্রিম টিকিট একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবার কিনতে পারবেন এবং এক্ষেত্রে ৪টি আসন সংগ্রহ করতে পারবেন। কোনো টিকিট রিফান্ড করা যাবে না।

এবার ঈদে ১০টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে রেলওয়ে। এসব ট্রেন ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর, ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে পার্বতীপুর পথে চলাচল করবে। ঈদ উপলক্ষে রেলের বিদ্যমান আন্তনগর ট্রেনগুলোর সঙ্গে আরও ৪৪টি নতুন কোচ যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

সভা শেষে ফাওজুল কবির সাংবাদিকদের বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, প্রতিটি বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এর মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ১৫ রোজার মধ্যে সড়ক ও মহাসড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করা হবে। টিকিট কালোবাজারি ও বাড়তি ভাড়া আদায় রোধে মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর পর্যবেক্ষণ দল থাকবে। কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়ক উপদেষ্টা জানান, ঈদে মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে। তবে চালক ও যাত্রীদের অবশ্যই হেলমেট থাকতে হবে। নসিমন, করিমনসহ ধীরগতির যানবাহন মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না।

ঈদের আগের দুই-তিন দিন বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ফাওজুল কবির খান বলেন, তিনি নিজেসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তারা শেষ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি তাঁদের রয়েছে।

সভায় সড়ক পরিবহন বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এহসানুল হক, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলমসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সড়কে চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শিমুল বিশ্বাস বলেন, সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া আছে। এরপরও কেউ চাঁদাবাজি করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, চাঁদাবাজির যেকোনো তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজি বন্ধের দায়িত্ব যাঁদের, তাঁদের অবহেলা পেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব এহসানুল হক।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *