■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
দক্ষিণ গাজার নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে ইসরায়েলি হামলায় আল জাজিরার আলোকচিত্রী মোহাম্মদ সালামাসহ পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোট ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২৫ আগস্ট) হাসপাতালের চতুর্থ তলায় সাংবাদিকদের অবস্থানকালে একটি ‘ডাবল-ট্যাপ’ হামলা চালানো হয়। এতে প্রথমে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে হাসপাতালে, এতে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মী ও সাংবাদিকরা ছুটে আসতেই আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে তাদের ওপর।
নিহত অন্য চার সাংবাদিক হলেন—সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের ফটোসাংবাদিক হুসাম আল-মাসরি; মারিয়াম আবু ডাক্কা, যিনি দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যারাবিক এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন; সাংবাদিক মুয়াজ আবু তাহা এবং সাংবাদিক আহমেদ আবু আজিজ, যিনি কুদস ফিড নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য গণমাধ্যমে কাজ করতেন। গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিসের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্স জানায়, হামলার মুহূর্তেই হাসপাতাল থেকে তাদের লাইভ ভিডিও সম্প্রচার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ক্যামেরাটি পরিচালনা করছিলেন নিহত ফটোসাংবাদিক হুসাম আল-মাসরি।
গাজার গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত করেছে। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে সংবাদ কাভারেজে থাকা সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত বোমা হামলায় তারা শহিদ হয়েছেন। এ অপরাধে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা ইসরায়েলি দখলদার, মার্কিন প্রশাসন এবং গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সকে এই নৃশংস অপরাধের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী করছি।
ইসরায়েল-হামাস সংঘাত সংবাদমাধ্যমের জন্য এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। জার্নালিস্ট প্রটেকশন কমিটি জানায়, ২২ মাসের এই সংঘর্ষে গাজায় মোট ১৯২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
সাংবাদিকদের এই হত্যাকাণ্ড ঘটল মাত্র দুই সপ্তাহ পর, যখন খ্যাতনামা আল জাজিরা সাংবাদিক আনাস আল-শরীফ গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের সামনে তার আরও চার সহকর্মীর সঙ্গে নিহত হন। ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা আনাসকে লক্ষ্য করেছিল, যিনি গাজা উপত্যকার এক কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৭৩-এ পৌঁছেছে বলে আল জাজিরার হিসাবে জানানো হয়েছে।
গাজায় সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা ও সহিংসতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও সাংবাদিকদের সুরক্ষার মৌলিক নীতির লঙ্ঘন। বিশ্বব্যাপী মিডিয়া সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।