বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের

■ নাগরিক প্রতিবেদন 

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পবিত্র রমজান মাসে ইফতার, তারাবি ও সেহেরির সময় যেন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দুটি জাহাজ জ্বালানি নিয়ে ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে জ্বালানির ব্যবহার ও মজুত করতে হবে। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে রেশনিং পদ্ধতিতে সাশ্রয়ীভাবে জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সকাল ১১টায় তেলভর্তি একটি জাহাজ এসে বন্দরে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আজ আরও একটি জাহাজ আসবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে এলএনজি ও এলপিজির আটটি জাহাজ। পাশাপাশি তেলের জাহাজও আসছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করা জ্বালানিবাহী আটটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

দূরপাল্লার একটি পরিবহনের মালিক বলেন, আমাদের বাসগুলোতে ২৬০ লিটার তেল ধরে। প্রতিদিন ঢাকায় আসা-যাওয়ায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটারে ৯০–৯৫ লিটার তেলের প্রয়োজন হয়। গতকাল আমার বাসগুলো মাত্র ১০ লিটার করে তেল নিতে পেরেছে। আজ কোনোভাবে চলছে, তবে ফেরার পথে পর্যাপ্ত তেল না পেলে আগামীকাল বাস চালানো সম্ভব হবে না।

ময়মনসিংহ রুটের সৌখিন পরিবহনের চালক মো. শরিফ বলেন, আমাদের বাসে দিনে ৩ ট্রিপে ১১০–১১৫ লিটার তেল লাগে। সেখানে গতকাল দুই পাম্প মিলিয়ে মাত্র ৮০ লিটার তেল নিতে পেরেছি। এখন ট্রিপ সংখ্যা কমানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।

অধিকাংশ পাম্পেই ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তেল না দেওয়ার কারণ খুঁজতে রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ স্টেশনেই জ্বালানি নেই। রেশনিং পদ্ধতি শুরু হওয়ার আগে অতিরিক্ত জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় এসব ফিলিং স্টেশনে মজুদ শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় তেলবাহী গাড়ি আসেনি বলেও জানিয়েছেন কর্মীরা।আমাদের স্টকের তেল সীমিত, তাই সবাইকে অল্প করে দিচ্ছি। তেলের গাড়ি আসলে আবার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হবেপাম্পকর্মী আবদুল্লাহ

বিমানবন্দর সড়কের ডিএল ফিলিং স্টেশনে অকটেন ও ডিজেল— কোনটিই নেই। স্টেশনের এক কর্মী ঢাকা পোস্টকে বলেন, সব রকম তেল শেষ। তবে আজ দুপুরের মধ্যে গাড়ি আসার কথা, তখন আবার তেল পাওয়া যাবে।

‘তেল নেই’ এমন সাইনবোর্ড দেখা যায় খিলক্ষেতের ইসরাইল তালুকদার ফিলিং স্টেশনে। সেখানকার কর্মচারী রাকিব বলেন, পাম্পের তেল শেষ। গাড়ি আসলে পাওয়া যাবে। তবে তেলের কোনো সংকট নেই, সরবরাহ ঠিকঠাক আছে।

এই রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ বাস টঙ্গী-গাজীপুর এলাকা থেকে তেল সংগ্রহ করে। খোঁজাখুঁজির পর দেখা মেলে একটি পাম্পের, যেখানে শুধু ডিজেল বিক্রি হচ্ছিল। প্রোগ্রেসিভ ফিলিং স্টেশন নামের ওই পাম্পে তেল নিতে আসা গাজীপুর পরিবহনের চালক ইসমাইল বলেন, তেল দরকার ৪০ লিটার, অথচ দিচ্ছে ১০ লিটার। যা দিয়ে বেশিক্ষণ চালানো যাবে না, আবার তেল নিতে হবে।এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা আছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশে আসছে। সুতরাং আসন্ন ঈদ ঘিরে তেল সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেইবিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা

পাম্পকর্মী আবদুল্লাহ বলেন, আমাদের স্টকের তেল সীমিত, তাই সবাইকে অল্প করে দিচ্ছি। তেলের গাড়ি আসলে আবার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

তেলের কোনো সংকট নেই

দেশে ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, অর্ডার করা তেলবাহী ১৪টি কার্গোর অধিকাংশ কার্গো দেশে পৌঁছেছে। আগামীকাল (৯ মার্চ) আরও কার্গো আসবে। এছাড়া আগাম সংকট এড়াতে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এপ্রিল পর্যন্ত ডিজেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা আছে, যা পর্যায়ক্রমে দেশে আসছে। সুতরাং আসন্ন ঈদ ঘিরে তেল সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান টুকু। তিনি বলেছেন, আগামী ৯ মার্চ আরও ২টি ভেসেল আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বর্তমানে সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে ভয়ের কিছু নেই। অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখেই আমরা রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছি। কিন্তু মানুষ ভয় পেয়ে মজুদ শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নেই।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *