প্রাথমিক বৃত্তিতে অংশ নিতে পারবে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

‎‎প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জুনিয়র ও দাখিল ৮ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা এবং ইবতেদায়ি ৫ম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

‎শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি ও কিন্ডারগার্টেনের একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী কেন্দ্রীয়ভাবে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছেন। ‎২০২৫ সালে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের তদারকিতে এ পরীক্ষার ফল প্রক্রিয়া করেছে নয়টি শিক্ষা বোর্ড।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক বলেন, একই দেশে একই শিক্ষাব্যবস্থা। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, একই প্রশ্নে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ৮০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়া হবে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। আর ২০ শতাংশ দেওয়া হবে বেসরকারি অর্থাৎ কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিকে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে মেধাবৃত্তি ৩৩ হাজার। সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য হবে ২৭ হাজার ৫০০ ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৫ হাজার ৫০০।অন্যদিকে সাধারণ মোট বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০। এর মধ্যে সরকারি ৪১ হাজার ২৫০ ও বেসরকারি ৮ হাজার ২৫০।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা পাবে। আর সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। আগামী বছর এই বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তা করা হবে বলে জানান তিনি।

বৃত্তি পরীক্ষার আপত্তি নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী

করোনাভাইরাসের মহামারির সময় ২০২০ সালে জেএসসি পরীক্ষা বন্ধ হওয়ার পর নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে তা আর চালু হয়নি। কিন্তু শিক্ষাবর্ষের আট মাস শেষ হওয়ার পর গত বছর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাও করোনার সময় বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের শেষ দিকে হঠাৎ চালু হলেও ফলাফলে ভুল ও অসংগতি দেখা দেয়। পরে তা আর হয়নি। সম্প্রতি আবার প্রাথমিক স্তরে বৃত্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত হয়। যদিও গত বছর মামলার কারণে প্রাথমিকের বৃত্তি আটকে যায়।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ বলে আসছেন, নির্ধারিতসংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষায় বৈষম্য বাড়াবে। এতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মূলত ওই নির্ধারিতসংখ্যক শিক্ষার্থীর ওপরই মনোযোগ দেবে। ক্লাসের অন্য শিক্ষার্থীরা নজরের বাইরে চলে যেতে পারে। অথচ শিক্ষাক্রম নির্ধারিত শিখন অর্জনের জন্য পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বেশি সহযোগিতা করা দরকার। এ ছাড়া কোচিং ও প্রাইভেট–নির্ভরতা বেড়ে গিয়ে অভিভাবকদের ওপর আর্থিক বোঝাও বাড়ার আশঙ্কা আছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *