■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
পেট্রোলিয়াম তরল জ্বালানি আমদানি, পরিশোধন ও বাজারজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। দেশে চলমান সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির অনুমতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থাকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রোববার জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাতে গণমাধ্যকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিপিসিকে। ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এখন সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে এলপিজি আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমদানি করা গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভারসাম্য আসবে।
তিনি আরও বলেন, আপাতত সরকার শুধু এলপিজি আমদানির পর্যায়েই যুক্ত থাকবে। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত হওয়ার আপাতত পরিকল্পনা নেই। এসব কাজ বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই করা হবে।
বিপিসি গত ১০ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চায়। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশে এলপিজির সরবরাহ ঘাটতি ও দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হলে তা সামাল দেওয়ার মতো কোনো কার্যকর সরকারি হাতিয়ার নেই।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নীতিগত অনুমোদন পেলে বিপিসি জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে দ্রুত বাজারে সরবরাহ করবে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
বিপিসি সূত্র জানায়, জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন ও কাতারকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তুলনামূলক কম দামে ও সহজ শর্তে যেসব দেশ এলপিজি সরবরাহ করতে পারবে, তাদের কাছ থেকেই আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, সরবরাহের নিশ্চয়তা ও চুক্তির শর্ত—এসব বিবেচনায় রেখে সবচেয়ে সুবিধাজনক দেশ বা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। লক্ষ্য একটাই—স্বল্প সময়ে এলপিজি এনে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো। এ নিয়ে আজ রোববার একাধিক বেসরকারি এলপিজি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সভা করেছে বিপিসি।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট চলছে। সরকার নির্ধারিত দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না অনেক জায়গায়। সরবরাহ চাপের কারণে বাজারে সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স নিয়েছে ৫২টি কোম্পানি। এর মধ্যে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরতে ৩২টি কোম্পানির নিজস্ব প্ল্যান্ট আছে। আমদানি করার সক্ষমতা আছে ২৩টি কোম্পানির। গত বছর কোনো না কোনো মাসে আমদানি করেছে ১৭টি কোম্পানি। আর প্রতি মাসে আমদানি করেছে মাত্র ৮টি কোম্পানি। বছরের শুরুতে আমদানি করলেও শেষ দিকে কেউ কেউ আমদানি বন্ধ রাখে।
দেশে ২০২৩ সালে এলপিজি আমদানি হয় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সালে আমদানি করা হয় ১৬ লাখ ১০ হাজার টন। আর গত বছর আমদানি করা হয়েছে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন। গত বছর আমদানি আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ কমেছে।
