৫ লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

𓂃✍︎ নাগরিক প্রতিবেদন 𓂃✍︎

আগামী ছয় মাসের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। অন্যদিকে, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রম সমন্বয় করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

গত মার্চে নিয়োগ প্রস্তাবনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চেয়ে গত ৭ মার্চ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে চিঠি পাঠায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর পর মার্চের মাঝামাঝিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার শূন্য পদে নিয়োগের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাঠায়। 

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, আমরা সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরিকল্পনা পেয়েছি। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। 

এদিকে পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পিএসসি কতজন জনবল নিয়োগ দেবে, এ-বিষয়ক তথ্য জানতে চেয়েছিল মন্ত্রণালয়। আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা জানিয়েছি। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ হবে, তা নথি দেখে বলতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিবছর একটি বিসিএস সম্পন্ন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পিএসসি। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিশেষ কোনো বিসিএস বা নিয়োগের উদ্যোগ নিলে সেই কাজ করার চেষ্টা করব। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বাজেট ব্যবস্থাপনা অধিশাখার এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, পাঁচ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিপরীতে প্রয়োজন হবে সাড়ে আট কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) লাগবে সাড়ে চার কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জুলাই ও আগস্টে লাগবে চার কোটি টাকা। নিয়মিত রাজস্ব বাজেটের আওতায় এটি পরিচালিত হবে। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, সব শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত আছেন। এর বিপরীতে শূন্য আছে চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ। বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত আছেন এক লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, এর মধ্যে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত দুই লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্য এক লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ছয় লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্য এক লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ। চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত চার লাখ চার হাজার ৫৭৭ জন, শূন্য এক লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সব পর্যায় মিলিয়ে ৩২ শতাংশ পদ খালি আছে। খালি পদের সংখ্যা ৭৭ হাজার ৮৭৭টি। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *