■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
রাজধানীর উত্তরায় নিজের বাসায় খুন হয়েছেন হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া। তাকে কুপিয়ে জখম করে বাথরুমে আটকে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে বের হলে প্রতিবেশীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সোমবার (১০ মার্চ) ভোরে উত্তরার উত্তরখান পুরান পাড়ার একটি বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে হামলার ঘটনাটি ঘটে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী রেজাউল রায়হান জানান, সাইফুর রহমান ভূঁইয়াকে সোমবার ভোরে (সেহেরির সময়) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে হত্যা করা হয়। তার গলায় ও মাথায় রামদার কোপের দাগ ছিল।
রেজাউল রায়হান আরও জানান, সরকার পরিবর্তনের পর কলেজের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে অধ্যক্ষসহ কলেজের অধিকাংশ শিক্ষককে পদত্যাগ করিয়ে নতুন করে পদোন্নতি দেওয়ার দাবি জানান। সাইফুর রহমান ভূঁইয়াকে উপাধ্যক্ষ করা হয়েছিল। তিনি একসময় বিএনপির মতাদর্শী হলেও আওয়ামী লীগের আমলে সেমিনারে অংশগ্রহণের কিছু ছবি ভাইরাল হয়। এসব ছবি দেখিয়ে কিছু শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। এ ঘটনাটি কলেজে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে কোন্দল তৈরি করেছিল।
সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ডিএমপির উত্তরা বিভাগের দক্ষিণখান অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. নাসিম। তিনি বলেন, প্রতিবেশী ও বাড়ির মালিকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, যে বাসায় সাইফুর রহমান ভূঁইয়া খুন হয়েছেন সেখানে তিনি নিয়মিত থাকতেন না। মাঝে মধ্যে আসতেন। তিনদিন আগে বাসাটিতে আসেন ওই শিক্ষক। এদিন এক নারী ও যুবক আসেন বাসায়। তাদেরকে ভাবী ও ভাতিজা পরিচয় দেন সাইফুর রহমান। পরে সোমবার ভোরে ওই দুজন তাকে কুপিয়ে জখম করে বাথরুমে আটকে রেখে ফ্ল্যাটের মূল দরজা বন্ধ করে চলে যায়। সাইফুর রহমান ভূঁইয়া বাথরুমের দরজা ভেঙে বের হন। এরপর প্রতিবেশীদের সহায়তায় উত্তরার লেক ভিউ হাসপাতাল নিয়ে যান। সেখানেই তার মুত্যু হয়।
এসি নাসিম আরও বলেন, সাইফুর রহমান ভূঁইয়ার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই ভবনের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আসামি গ্রেফতারে কাজ করছে একাধিক টিম।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আহমেদ আলী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সাইফুর রহমান ওই ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন। কয়েক দিন আগে দুজন নারী-পুরুষ তার বাসায় ওঠেন। আজ সেহরির সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
পুলিশ কর্মকর্তা আহমেদ আলী বলেন, “ওই দুই ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে। তারা সাইফুর রহমানের আত্মীয় কি না এবং হত্যার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নিহত সাইফুরের স্ত্রী সাদিয়া রহমান দুই সন্তান নিয়ে শান্তিনগর পীর সাহেবের এলাকায় একটি বাসায় থাকেন। তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হলে সাইফুর রহমান উত্তরখানে থাকতে শুরু করেন।
উত্তরাখান থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, সাইফুর রহমানের বিষয়ে খবর দেওয়া হলে তার স্ত্রী লাশ নিতে অস্বীকার করেন। থানায় আসতে বললেও তিনি আসেননি।
ওসি বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে সাইফুর রহমানের বড় ভাইয়ের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া সন্দেহভাজন আসামিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।