■ শাবিপ্রবি প্রতিনিধি ■
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিকুল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।
আগামীকাল মঙ্গলবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
শাকসু নির্বাচন স্থগিতের হাইকোর্টের আদেশের প্রতিবাদে সিলেটে সড়ক অবরোধ করেছেন একদল শিক্ষার্থীরা। নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ ও আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দুপুর ২টার দিকে তারা সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের খবর আসার পর অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
তবে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়কের একটি লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রোববার হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন শাকসুর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোমিনুর রশিদ শুভ। রিটে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজন বেআইনি হবে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
সোমবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। এ প্রতিবেদন লেখার সময় দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল চলছিল। এতে শাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘শাকসু কয় তারিখ, ২০ তারিখ’, ‘শহীদ রুদ্র শিখিয়ে গেছে, লড়াই করে বাঁচতে হবে’, ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’—এ ধরনের নানা স্লোগান দেন। পাশাপাশি তাঁরা আগামীকাল মঙ্গলবার নির্ধারিত সময়েই শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান।
‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান বলেন, ‘যারা শুরু থেকেই শাকসু নির্বাচন চায়নি, তাদের সর্বশেষ ট্রাম্পকার্ড হচ্ছে আইন-আদালতের মাধ্যমে নির্বাচন বন্ধ করা। যে আইন ভোটাধিকার হরণ করবে, সেই আইন আমরা মানি না। শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। রিটের শুনানিতে যদি শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে রায় আসে, তাহলে শিক্ষার্থীরা মাঠেই থাকবে।’
স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, ‘আমরা জানি, একজন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে সব নির্বাচন বন্ধ রাখতে ইসির নির্দেশনার পর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শাকসু নির্বাচনের অনুমতি পাওয়া যায়। তবে গতকাল ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশীদ নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেন।’
পলাশ বখতিয়ার আরও বলেন, ‘রিটকারী কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন, ইসির নির্দেশনার পর নির্বাচন হওয়া আইনসম্মত নয়। এ রিটের শুনানি আজ ১১টায় হওয়ার কথা। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল শাকসু নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়েছে। এসবের বিরুদ্ধেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন। আমরা চাই, অবিলম্বে সব রিট খারিজ করে আগামীকাল শাকসু নির্বাচন হোক।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯টায় এবং চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
