মাগুড়ায় শিশু ধর্ষণ: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হিটু

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

মাগুরার আট বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি হিটু শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় মাগুরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সব্যসাচী রায়ের খাস কামরায় এই জবানবন্দি দেন বলে আইনজীবী শাহেদ হাসান টগর জানান।

বাদী পক্ষের এই প্যানেল আইনজীবী বলেন, আসামি বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই জবানবন্দি দিয়েছেন।

হিটু শেখ জবানবন্দিতে জানিয়েছেন- নির্জন ঘরে একা পেয়ে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে প্রধান আসামি হিটু শেখকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

জবানবন্দির বিস্তারিত পরে বলবেন জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম বলেন, এই মামলার অন্য তিন আসামিও রিমান্ডে রয়েছেন।

তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা।

তিনি বলেন, শিশু ধর্ষণ মামলার তদন্ত চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আসামিদের মুভমেন্টের কোনো তথ্য আমরা এই মুহূর্তে দিতে পারছি না।

এ মামলার অন্য তিন আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। যা রোববার (১৬ মার্চ) শেষ হবে।

এদিকে এ ঘটনায় শিশুটির মা গত ৮ মার্চ মাগুরা সদর থানায় শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখসহ চারজনকে আসামি করে শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে এ মামলায় আসামি করা হয় হিটু শেখের স্ত্রী জাহেদা, নির্যাতনের শিকার শিশুটির বোন জামাই সজিব এবং সজিবের বড় ভাই রাতুলকে। পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত চার আসামিকেই গ্রেফতার করেছে।

মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে গত ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণের শিকার হয় ৮ বছরের শিশু। এ সময় তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টাও করা হয়। ওই ঘটনার পর প্রথমে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সর্বশেষ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ দুপুরে সেখানে শিশুটির মৃত্যু হয়।

এর আগে বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারবার ও বৃহস্পতিবার আরও দুবার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ (আকস্মিকভাবে হৃৎস্পন্দন বন্ধ) হয় শিশুটির।

শিশুটির চিকিৎসায় সিএমএইচের প্রধান সার্জনকে প্রধান করে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল।

মাগুরার এ ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনা চলছে। ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। 

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *