■ ক্রীড়া প্রতিবেদক ■
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ বিকেলে বাফুফে ভবন পরিদর্শনে যান। ঘণ্টা খানেক বাফুফে কর্তাদের সঙ্গে থাকার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
শুরুতেই উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা যেটা শুনতে চান, আমি জানি। ফুটবলে আসলেও ক্রিকেটের বিষয়েই বলবেন! এরপরও অনুরোধ করব ফুটবলের বিষয়টিও বইলেন।’
ফুটবল ও বাফুফের কিছু বিষয় বলার পর তিনি নিজেই ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ আনেন। তিনি বলেন, ‘আইসিসির সিকিউরিটি টিম একটি চিঠি দিয়েছে। তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়বে। প্রথমত, মুস্তাফিজ যদি বাংলাদেশ দলে অর্ন্তভুক্ত হয়, দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের সমর্থকরা ভারতে জার্সি পরে ঘোরাফেরা করলে, তৃতীয়ত নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে তত বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।’
আইসিসির এই নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টার মন্তব্য, ‘আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ বোলার বাদ দিয়ে দল করব, সমর্থকরা জার্সি পরতে পারবে না, ক্রিকেটের জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেব– এর চেয়ে উদ্ভট ও অবাস্তব, অযৌক্তিক কিছু হতে পারে না।’
মুস্তাফিজের ইস্যুর পরপরই ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছিলেন, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ নয়। বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না- এমন অবস্থান যৌক্তিক সেটা আবার প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, ‘আইসিসি নিরাপত্তা টিমের এই পর্যবেক্ষণ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের খেলার পরিবেশ নেই।’
পাকিস্তান ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলবে। বিসিবিও এমন দাবি জানিয়েছে আইসিসির কাছে। সম্প্রতি পাকিস্তানও বাংলাদেশের ম্যাচের আয়োজক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘মিডিয়ায় দেখেছি পাকিস্তানের আগ্রহের বিষয়টি। এটা সত্য-মিথ্যা জানি না। ভারতের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে খেলতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
আইসিসি নিরাপত্তা টিমের চিঠি কখন, কাকে দিয়েছে সেটা অবশ্য ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট করেননি। তবে তিনি সাংবাদিকদের সেই চিঠি দেয়া হবে বলে জানান।
ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যে তৈরি ধোঁয়াশা পরিষ্কার করল বিসিবি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে হবে নাকি শ্রীলঙ্কায়, তা নিয়ে এখনো জটিলতা কাটেনি। এরই মধ্যে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিস্ফোরক এক বক্তব্য দিয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান খেললে নিরাপত্তাঝুঁকি বেশি থাকবে বলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) নিরাপত্তা বিভাগ চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য যে আইসিসিকে পাঠানো চিঠির প্রেক্ষাপটে নয়, সেটা পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আজ বিকেলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের পাঠানো এক চিঠিতে তিনটা পয়েন্টের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ দলে মোস্তাফিজকে অন্তর্ভুক্ত করা, বাংলাদেশের সমর্থকদের জাতীয় দলের জার্সি পরে ঘোরাফেরা করা ও জাতীয় নির্বাচনের ইস্যু—এই তিন কারণে ভারতে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ খেলা ঝুঁকিপূর্ণ বলে আইসিসি উল্লেখ করেছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা। কয়েক ঘণ্টা পর বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ক্রীড়া উপদেষ্টা যা বলেছেন, সেটার সঙ্গে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের চিঠির কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশ যে চিঠি আইসিসিকে পাঠিয়েছে, ক্রীড়া উপদেষ্টার কথা সেই চিঠির উত্তর নয়। ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে এখনো আইসিসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিসিবি।
যেকোনো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আইসিসি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডের কাছে আয়োজক দেশের সার্বিক অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন পাঠায়। যার মধ্যে একটি হচ্ছে আয়োজক দেশের নিরাপত্তা ইস্যু। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কথার পর একটি ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। পরে উপপ্রেস সচিব আজাদ মজুমদার তাঁর পোস্টে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, উপরোক্ত তিনটি পয়েন্ট আইসিসির পাঠানো উত্তর নয়। আজাদ মজুমদার নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে আইসিসির নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে আন্তঃবিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে তিনটা পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন। তবে ভারত থেকে বাংলাদেশ ম্যাচ সরানোর যে অনুরোধ, সেটার সঙ্গে তিন পয়েন্টের কোনো সম্পর্ক নেই।’
মোস্তাফিজকে আইপিএলে কলকাতা থেকে বাদ দেওয়ার ইস্যুতেই মূলত নিরাপত্তা ইস্যু জোরদার হয়েছে। এক ক্রিকেটারকেই যখন নিরাপত্তা দিতে পারছে না, বাংলাদেশ দলের বিশাল বহরকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে—এই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটসহ অনেকেই। এরই মধ্যে ক্রিকবাজ খবর প্রকাশ করেছে, কলকাতা ও মুম্বাইয়ের পরিবর্তে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো তিরুবনন্তপুরম ও চেন্নাইয়ে হতে পারে। আইসিসির কাছে বিসিবি নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দফা চিঠি পাঠিয়েছে। দ্বিতীয় চিঠির উত্তর এখনো আসেনি। বিসিবি সভাপতি ভারতে খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানের কথা পরশু সিলেটে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।
