■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো স্থায়ী বাধা হতে পারেন না।
ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আসন্ন নির্বাচন, দলীয় সংস্কার এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন, সীমান্তে হত্যা বন্ধ এবং বাণিজ্য বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেন মির্জা ফখরুল।
‘দ্য উইক’-এর সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট এডিটর নম্রতা বিজি আহুজা প্রশ্ন করেন, রাজনীতিতে ভারতবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। কোন বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন?
জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথমত, পানি বণ্টন সমস্যার শুধু আলোচনা নয়, আন্তরিক সমাধান হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে। এটি কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তৃতীয়ত, বাণিজ্য বৈষম্যগুলো ন্যায্যভাবে মোকাবিলা করা দরকার। ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক ও অপ্রয়োজনীয় ছিল, যা উভয় পক্ষে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। সার্বভৌমত্ব, আত্মসম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাসের কথা মাথায় রেখে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এসব সমাধান করা উচিত। খালেদা জিয়ার শোকের সময় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সফর একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ ছিল।
উইক জানতে চায়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ফ্যাক্টরটি ভবিষ্যতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে?
জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি একটি ফ্যাক্টর, তবে তা কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়। শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে দিয়ে এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এই সংকট তৈরি করেছেন। দীর্ঘ মেয়াদে তিনি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক তাঁর ঊর্ধ্বে গিয়ে সামনে এগিয়ে নেওয়া উচিত।
ছাত্রদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে বিএনপি কেন জোট করেনি? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এনসিপি অনেক বেশি আসন দাবি করেছিল, যা দেওয়া সম্ভব ছিল না। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের প্রার্থীরা সেই সব আসনে জিততে পারবেন। কিন্তু একদম নতুন প্রতীক নিয়ে এনসিপি প্রার্থীরা জিততে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত নই। বাংলাদেশে নির্বাচনে প্রতীকের গুরুত্ব অনেক বেশি।
জাতীয় নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটাররা তাদের অধিকার ফিরে পেতে আগ্রহী। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো জোট হবে কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি ‘না’ বলেন। তিনি জানান, সরকার গঠন করলে শুধু আন্দোলনের সঙ্গী দলগুলো নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গড়া হবে এবং এতে জামায়াতের থাকার কোনো সুযোগ নেই।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং তাঁর ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে ফখরুল বলেন, এটি তরুণদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বিএনপির ভিশনে রয়েছে– প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমাবদ্ধ করা, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং দেড় বছরের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান।
ফখরুলের বিচারে, নির্বাচন কমিশন ‘দায়িত্বশীলভাবে’ কাজ করছে এবং সরকারও নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ‘আন্তরিক’।
“আমাদের উপমহাদেশে নির্বাচনকালে কিছু সমস্যা থাকেই, তবে সেগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত করার মত গুরুতর হবে বলে মনে করি না। রাজনৈতিক দলগুলো সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছে এবং মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।”
নির্বাচনে জয়ী হলে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের যে কথা বিএনপি বলে আসছে, সে বিষয়ে মির্জা ফখরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্য ইউক।
জবাবে তিনি আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনের সময় বাম ও ডান—উভয় ধারার বেশ কিছু সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়ে তোলার কথা মনে করিয়ে দেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। বিচারের মুখোমুখি করতে বাংলাদেশ তাকে ফেরত পাঠাতে বললেও ভারত তাতে সাড়া দেয়নি।
দ্য উইক প্রশ্ন করেছিল, আগামী দিনে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে?
জবাবে ফখরুল বলেন, “তিনি একটি ফ্যাক্টর, তবে অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে এবং ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে শেখ হাসিনাই এ সংকট তৈরি করেছেন। দীর্ঘমেয়াদে তিনি রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক তার বাইরে গিয়েও এগোতে পারে এবং এগোনো উচিত।”
একাত্তরের কিছু বিষয় অমীমাংসিত থাকার পরও বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের প্রতি ‘নরম’ কি না, সেই প্রশ্ন রাখা হয়েছিল বিএনপি মহাসচিবের সামনে।
উত্তরে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে—এটাই আমাদের অবস্থান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সব প্রতিবেশী দেশের একসঙ্গে কাজ করা দরকার।”
