আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা সরকারের নেই

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত দলটির নেতাদের আদালতের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ড. কমফোর্ট ইরো নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাউন্ডিং মিশনের সুপারিশ অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতাদের হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়টিও উড়িয়ে দেননি অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘এটাও আলোচনা রয়েছে।’

এসময় কোনো দাবির মুখে ভোট পেছানোর বিষয়টিও নাকচ করে দেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য দুটো সময়সীমার কথাও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আশ্বস্ত করেন, এই সময়সীমায় কোনো পরিবর্তন আসবে না।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে জুলাই চার্টার তৈরি করা হবে যা পরবর্তীতে সরকারকে বিভিন্ন নীতিগ্রহণ করতে সহায়তা করবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, সরকার নির্বাচনের জন্য দুটি সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে এবং নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করা হবে না। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে সীমিতসংখ্যক সংস্কার চায়, তাহলে নির্বাচন এই বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি বৃহত্তর সংস্কারপ্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের কোনো কারণ নেই। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানান, জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সম্ভাব্য অপরাধের অভিযোগ থাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), হেগে মামলা করার বিষয়টি সরকার বাতিল করেনি। এটি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ -এর কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী নেতা আতাউল্লাহর গ্রেফতারকে সরকারের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে প্রশংসা করেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, রাখাইন রাজ্যের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির সঙ্গে সরকারের আরও কার্যকর যোগাযোগের প্রয়োজন। অধ্যাপক ইউনূস জানান, ঢাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ত্রাণসহায়তা ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে এবং আসন্ন জাতিসংঘের বিশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করার আশা করছে।

ড. কমফোর্ট ইরো ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর মোকাবিলায় সহায়তার আশ্বাস দেন।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশবিরোধী অপতথ্য প্রচারের একটি বড় অংশ ভারতীয় গণমাধ্যম থেকেই আসছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *