তিন দিনে গাজায় ২০০ শিশু হত্যা করল ইসরায়েল

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■

গাজায় গত তিন দিনে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২০০ জনেরও বেশি শিশু রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৯০৯ জন।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার ভোর থেকে চালানো ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১০ জনে পৌঁছেছে। যার মধ্যে ২০০ জনের বেশি শিশু রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ’

এছাড়া এ হামলায় এখন পর্যন্ত ৯০৯ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে দুদিন ভয়াবহ বিমান হামলা চালানোর পর ইসরায়েলি বাহিনী বৃহস্পতিবার তাদের স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে। যার ফলে উপত্যকাজুড়ে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুধু বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চলে অন্তত ৮৫ জন নিহত এবং ১৩৩ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন মোট ৯০৯ জন।

প্রথমে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় বিমান হামলা শুরু করে। এর সঙ্গে যোগ দেয় স্থল বাহিনী। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করেছেন যে গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে তীব্র যুদ্ধের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি বৃহত্তর ও শক্তিশালী ফ্রন্ট গড়ে উঠতে পারে।

হামাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায়। এতে নিহত হন এক হাজার ১৩৯ জন। হামাস ইসরায়েল থেকে আড়াইশ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়।

পরে ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৯ হাজার ৬১৭ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং এক লাখ ১২ হাজার ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।

গাজার সরকারের তথ্য অফিস নিহতের সংখ্যা হালনাগাদ করে বলছে, নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ জন ছাড়িয়েছে। তারা বলেছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা হাজারো নিখোঁজ ফিলিস্তিনিকেও মৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও তা উপেক্ষা করেই হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ফলে ফিলিস্তিনিরা আবারও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।

ইসরায়েল যেসব এলাকাকে যুদ্ধ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে, সেখান থেকে সাধারণ মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে। উত্তর গাজা থেকে পালানো অনেক পরিবারকে শিশুসহ রাস্তায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

গাজার বাসিন্দাদের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, এটি শেষ সতর্কবার্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরামর্শ গ্রহণ করুন। জিম্মিদের ফিরিয়ে দেন এবং হামাসকে সরিয়ে দেন। তাহলে আপনাদের জন্য অন্যান্য বিকল্প উন্মুক্ত হবে– যার মধ্যে অন্য দেশে চলে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *