গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৪০০ জন

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় আবারও বিমান হামলা শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গাজায় নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ৪০০ জন নিহত হয়েছেন। 

আল-জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে কমপক্ষে ৭৭ জন এবং উত্তরে গাজা সিটিতে কমপক্ষে ২০ জন নিহত হয়েছেন।

চলতি বছর হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় এটিই ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় হামলা। গাজার উত্তরাঞ্চল, গাজা সিটি এবং মধ্য ও দক্ষিণ গাজার দেইর আল-বালাহ, খান ইউনিস ও রাফাহসহ একাধিক স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

বিমান হামলায় হামাস কমান্ডার এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। যদিও ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই বেসামরকি নাগরিক।

নাম প্রকাশ না করা ওই ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ইসরায়েলের আক্রমণ যতদিন প্রয়োজন ততদিন অব্যাহত থাকবে এবং বিমান হামলার বাইরেও বিস্তৃত হবে। যা গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সেনাদের সম্ভাব্য স্থল অভিযানে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

এদিকে হামাস বলছে, নেতানিয়াহু এবং তার চরমপন্থি সরকার যুদ্ধবিরতি উল্টে দিতে চাইছে। হামাস বলেছে, তারা ইসরায়েলের নেতানিয়াহু এবং নাৎসি-ইহুদিবাদী দখলদার বাহিনীকে গাজার অবরুদ্ধ এবং অরক্ষিত বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ হামলার জন্য দায়ী করছে।

এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, নেতানিয়াহু এবং তার চরমপন্থি সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি উল্টে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে গাজায় আটক থাকা বন্দিদের অজানা পরিণতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে জবাবদিহি করার জন্য হামাস যুদ্ধবিরতি মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং আরব লীগ ও ওআইসিকে গাজা উপত্যকায় আরোপিত অন্যায্য অবরোধ ভাঙতে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।

একইসঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠক করে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে হামাস, যাতে ইসরায়েলকে তার আগ্রাসন বন্ধ করতে বাধ্য করা যায়।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর আবারও হামলা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদক বারাক রভিদের মতে, হামাস যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ইসরায়েল গাজায় আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।

ছয় সপ্তাহ ধরে চলা প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসরায়েল প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইসরায়েল এবং হামাস মধ্যস্থতামূলক আলোচনা শুরু করেছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরায়েলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় গণহত্যা শুরু করে ইসরায়েল। এ আগ্রাসনে ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা এক লাখ হাজার ছাড়িয়েছে। 

গাজায় চলমান এই গণহত্যায় ইসরায়েলকে সরাসরি সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো পশ্চিমা দেশগুলো। অন্যদিকে বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ইরানের মতো দেশগুলো এ গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।   

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *