■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়া ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ভোরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে হামাস-পরিচালিত আল-আকসা টেলিভিশন।
জাবালিয়ায় আল-কানৌয়ার তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে হামাসের মুখপাত্র আবদেল-লতিফ আল-কানৌয়া নিহত হন। এ হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে গাজা সিটিতে পৃথক হামলায় কমপক্ষে ছয়জন এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একজন নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
অন্যদিকে কুদস নিউজ নেটওয়ার্কও হামাসের এই মুখপাত্রের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা মাটিতে আবৃত অবস্থায় আল-কানৌয়ার লাশের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে।
এই সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েল হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ইসমাইল বারহুম এবং আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা সালাহ আল-বারহুমকে হত্যা করে। বারহুম এবং আল-বারহুম উভয়ই ২০ সদস্যের হামাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী শীর্ষ সংস্থা রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য ছিলেন।
হামাস সূত্র অনুসারে, ২০২৩ সালের শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই সংস্থার ১১ জন নিহত হয়েছেন।
গত ১৮ মার্চ থেকে গাজায় নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৮৩০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১৮০০ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের বর্বর এই হামলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখিও হয়েছে ইসরায়েল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। ইসরায়েলের তথ্য অনুসারে, সেদিন হামাস ২৫০ জনকে জিম্মি করেছে। মাঝে কিছু বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হলেও এখনও ৫৯ জন আটক আছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কমপক্ষে ৫০ হাজার ১৮৩ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে অন্তত ১ লাখ ১৩ হাজার ৮২৮ জন।
জাতিসংঘের মানবিক সংস্থা জানিয়েছে, ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে ১ লাখ ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।