জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল

■ কক্সবাজার প্রতিনিধি ■ 

কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) আসনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে অপর ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্বনির্ধারিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

মনোনয়নপত্র বাতিল প্রার্থীরা হলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মওলা।

বৈধ হয়েছেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জিয়াউল হক, খেলাফত মজলিশের প্রার্থী ওবাদুল কাদের নদভী, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) প্রার্থী এস এম রোকনুজ্জামান খান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মাহমুদুল করিম।

জেলা রিটানিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, একটি মামলার যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে তার।

অন্যদিকে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদেরও মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়। 

এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, হামিদুর রহমান আযাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি আদালত অবমাননার মামলা হয়েছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা করা হলফনামায় এই সংক্রান্ত তথ্য তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু এ সংক্রান্ত রায়ের কপি বা কাগজপত্র তিনি জমা দেননি। বাছাইকালে জমা দিলেও বিস্তারিত কোনও ব্যাখ্যা উল্লেখ ছিল না। তার নিয়োজিত আইনজীবীরা মৌখিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু ১৯৭২-এর নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টের সঙ্গে পরিপূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ক্ষমতাবলে ওই মামলা জটিলতা বিষয়ের সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ের চূড়ান্ত দিতে পারবেন। তাই প্রার্থীর সেখানে আপিলের সুযোগ রয়েছে।’

মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলমগীর ফরিদসহ অন্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে হামিদুর রহমান অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা নিজেই এই জটিলতার বিষয় উত্থাপন করেন। এতে জোর আপত্তি জানান আলমগীর ফরিদ।

এই বিষয়ে হামিদুর রহমান আযাদের নিয়োগ করা আইনজীবী আকতার উদ্দীন হেলালী বলেন, ‘২০১৩ সালের ৯ জুন একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আদালত অবমাননায় অভিযুক্ত করে হামিদুর রহমান আযাদকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তিনি সেই সাজা পুরোপুরি ভোগ করেছেন। যদিও সাজাটি ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালভিত্তিক। কিন্তু এটি আদালতের অধিভুক্ত কোনও অপরাধে পড়বে না। অপরাধের ধারায় পড়লেই নির্বাচনে প্রার্থিতা হতে বাধা ছিল।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘সাজা ভোগ করার সঙ্গে সঙ্গে মামলাটির পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু আমার মক্কেল হামিদুর রহমান আযাদকে দেওয়া সেই সাজা অবৈধ ছিল। তাই ন্যায়বিচার পেতে উচ্চ আদালতে সেই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন তিনি। এরপর মামলাটির বাদীপক্ষ তিনি। পক্ষ অভিযুক্ত বা অপরাধী না। তাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পেরেছিলেন।’ তখন বাধা না হলে এখন কেন বাধা হবে তা বোধগম্য নয় বলে জানান আইনজীবী মোহাম্মদ আকতার উদ্দীন হেলালী।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করবো। আপিলে আশা করি খুব সহজে এই বাধা উতরে হামিদুর রহমান আযাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষিত হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় জামায়াতের এ নেতা তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলার তথ্য দেন। তার মধ্যে ৭০টিতে তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহার হয়েছে। আর দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে আদালত অবমাননার মামলাটিও রয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *