■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
অতীতের মতো আবারও বিএনপির সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থে অতীতে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেছেন, আগামীতেও করবেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর ছেলে তারেক রহমানের প্রতি সমবেদনা জানাতে আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে তারেক রহমানসহ দলটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।
গুলশান কার্যালয় থেকে বের হয়ে জামায়াত আমির সাংবাদিকদের জানান, তিনি তারেক রহমান ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনায় আমরা বলেছি, দেশের স্বার্থে অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, আগামীতেও ইনশা আল্লাহ একসঙ্গে কাজ করব। তারেক রহমানসহ উপস্থিত বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন, আমরাও করেছি।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এটাও বলেছি, আগামী পাঁচ বছর সুন্দর পরিবেশের জন্য আমরা সবাই মিলে ভালো কিছু চিন্তা করতে পারি কি না। সেটাও চিন্তা করা দরকার। আমরা এও বলেছি, নির্বাচনের পরে সরকার গঠনের আগে আমরা আবার বসব। খোলা মনে চিন্তা করে জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব।
সামনে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কারের জন্য গণভোট এবং সরকার গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন নির্বিঘ্ন, সুন্দর এবং গ্রহণযোগ্য হোক- এটি আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়। অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থে একসাথে কাজ করব।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতারা যেমন একই আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন, আমরাও সেটাই করেছি।আগামী পাঁচ বছরের জন্য জাতির স্থিতিশীলতা ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে চিন্তা করতে পারি কি না, সেটিও আমাদের লক্ষ্য।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানও স্মরণ করেন। জামায়াতের আমির বলেন, তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন। কঠিন সময়েও তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। তার গুরুতর অসুস্থতার সময়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য অনুরোধ করা হলেও সরকার তা আমলে নেয়নি, বরং উপহাস করেছে। আল্লাহর বিচার ইতিহাসে সঠিকভাবে হবে। শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন, তবে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আসার পরও তার স্বাস্থ্য এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে শেষ চিকিৎসা দেশেরই গ্রহণ করতে হয়েছে। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি যেন তিনি জান্নাতের সর্বোচ্চ দরজা পান।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পরিবারের সদস্য, সংগঠনের নেতাকর্মী এবং চিকিৎসক সমাজের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ায় দেশবাসী আশা রাখতে পারবে। বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় সংবর্ধনা হয়েছে ইতিহাসের বিরল সম্মান নিয়ে। মানুষ আবেগ ও চোখের পানির সঙ্গে তাকে বিদায় জানিয়েছে। তার অবদান থেকে আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি এবং আশা করি ভবিষ্যতে আমরা ও দেশের মানুষের জন্য এমন অবদান রাখতে পারব।
সাক্ষাৎকালে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন ও সাইফুল আলম খান মিলন।
