■ খুলনা প্রতিনিধি ■
খুলনার দিঘলিয়ায় দোকানে ঢুকে পায়ের রগ কেটে যুবদল নেতা খান মুরাদ খাকেকে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সেনহাটি বক্সিবাড়ী কবরস্থানের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত মুরাদ হাজী গ্রামের বাসিন্দা খান মুনসুর আহমেদের ছেলে। তিনি উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সাজ্জাদ ও আলামিনসহ আরও ১০-১৫ জন মুরাদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য তিনি একটি দোকানে আশ্রয় নেন। পরে তালা ভেঙে দোকানের ভেতর ঢুকে ছুরি দিয়ে মুরাদের দুই হাঁটুর নিচের রগ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা মুরাদকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ মর্গে আছে।
দিঘলিয়া থানার ওসি মো. শাহ আলম জানান, মুরাদের সঙ্গে স্থানীয় ছাত্রদলের সাজ্জাদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, মুরাদ খার সঙ্গে দিঘলিয়া থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনের বাগবিতণ্ডা হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দিঘলিয়া থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনসহ ৪/৫ জন মুরাদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য মুরাদ বক্সিবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন একটি দোকানে আশ্রয় নেয়। দুর্বৃত্তরা ওই দোকানের তালা ভেঙে দোকানের ভেতরই পুনরায় হামলা করে। এসময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে মুরাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্করজনক। রগ কেটে তাকে আটকে রাখায় শরীর থেকে সমস্ত রক্ত বের হয়ে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
তিনি বলেন, হত্যাকারী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আমরা প্রশাসনের কাছে জানাব, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে হত্যাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখার প্রয়োজন নেই এবং কার সঙ্গে কি সম্পর্ক রয়েছে এটাও বিবেচ্য বিষয় নয়। আমাদের একজন রাজনৈতিক কর্মী শুধু নয়, একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা যেন গ্রেফতার হয়।
