জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ‎ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন কেন্দ্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেছেন।

‎২০২৫ সালে অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৬০ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের তদারকিতে এই পরীক্ষার ফল প্রক্রিয়া করেছে ৯টি শিক্ষা বোর্ড।

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল যেভাবে দেখবেন

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ লিখে ফল দেখতে পারবেন।

এ ছাড়া মোবাইলের বার্তাতেও দেখা যাবে ফল। মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল লিখে ১৬২২২ (16222) নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

‎এই বছর ৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হবে। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বা মেধাবৃত্তি এবং ৩১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবে।

‎মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে এককালীন ৫৬০ টাকা ও প্রতি মাসে ৪৫০ টাকা হারে বৃত্তি পাবে। আর সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা বছরে এককালীন ৩৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা পাবে। আগামী দুই বছর তারা এই সুবিধা পাবে। ‎

‎মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা বৃত্তির কোটা বণ্টনের আদেশ অনুযায়ী, ঢাকা বোর্ডের ৩ হাজার ৬৩৫ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৭ হাজার ৭৯০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবে। ময়মনসিংহ বোর্ডের ৯৬৭ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৭৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, রাজশাহী বোর্ডের ১ হাজার ৯২৬ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৪ হাজার ১২৮ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, কুমিল্লা বোর্ডের ১ হাজার ৬৭৭ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৯৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, সিলেট বোর্ডের ৯৪৮ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৩০ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি এবং বরিশাল বোর্ডের ৮৭৩ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ১ হাজার ৮৭১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবে।‎

‎এ ছাড়া যশোর বোর্ডের ১ হাজার ৬৬২ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৫৬১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি, চট্টগ্রাম বোর্ডের ১ হাজার ২১০ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ২ হাজার ৫৯৩ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি এবং দিনাজপুর বোর্ডের ১ হাজার ৮০২ শিক্ষার্থী মেধা বৃত্তি ও ৩ হাজার ৮৬১ শিক্ষার্থী সাধারণ বৃত্তি পাবে।

‎অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের ভিত্তিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়ে আলাদা আলাদা পরীক্ষা হলেও বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা হয় একসঙ্গে।

‎গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। ২৮ ডিসেম্বর বাংলা, ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি, ৩০ ডিসেম্বর গণিত এবং ৫ জানুয়ারি বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বৃত্তি পরীক্ষার মোট নম্বর ৪০০। বাংলায় ১০০, ইংরেজিতে ১০০, গণিতে ১০০, বিজ্ঞানে ৫০ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা হয় ৩ ঘণ্টা সময়ে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সুপারিশ দিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিটি অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা (জেএসসি) বাতিল করার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষাবিদদের পরামর্শের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, তবে পরবর্তী সময় বিবেচনায় আনার চেষ্টা করবেন, পরামর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তবে তাঁর সাধারণ বুদ্ধিতে ঐতিহ্যগতভাবে হওয়া বৃত্তি পরীক্ষা না করার পক্ষে এই মুহূর্তে মতামত দিতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষাঙ্গনের কোনো ধরনের প্রণোদনা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চান না। তবে একটা প্রশ্ন আসতেই পারে, এই সুবিধা আরও বৃহত্তর করা। এই ছাতার নিচে সব শিক্ষার্থীকে যেন নিয়ে আসা যায়, সে জন্য তাঁরা কাজ করবেন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *