হাইকোর্টের বিতর্কিত বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসান (এম আর হাসান) পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রধান বিচারপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। পরে প্রধান বিচারপতি তার পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত চলছিল সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে। ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর বনানী ইউলুপে ট্রাফিক সার্জেন্ট মহুয়ার বাবা মনোরঞ্জন হাজমকে গাড়িচাপা দেন বিচারপতি রেজাউল হাসানের ছেলে।

সে সময় এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। অভিযোগ ছিল, বিচারপতির প্রভাব খাটিয়ে সে সময় থানা-পুলিশকে ফোন করে ছেলেকে আসামি না করতে চাপ দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি নেওয়া হয়।

বিচারপতি এম আর হাসান হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থাকাকালীন কোম্পানি বেঞ্চের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ প্রধান বিচারপতির কাছে জমা পড়ে।

অভিযোগ আছে, একাধিক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্থ নিয়ে রায় পরিবর্তন করতেন তিনি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের যেসব বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে তদন্ত শুরু হয়, তাদের মধ্যে এম আর হাসান অন্যতম।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রাথমিকভাবে তার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় তাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেন।

সার্জেন্ট মহুয়ার বাবার পা হারানোর মামলায় বিচারপতির ছেলেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল

প্রাইভেটকারের চাপায় বিজিবির অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মহুয়া হাজংয়ের বাবা মনোরঞ্জন হাজংয়ের পা হারানোর মামলায় আসামি সাঈদ হাসান সাব্বিরকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন আদালত।

মনোরঞ্জন হাজং ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বনানী চেয়ারম্যানবাড়ির ইউলুপে। এ সময় একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে মারাত্মক আহত হন মনোরঞ্জন। হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রথমে তার ডান পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত এবং পরে সংক্রমণ হওয়ায় হাঁটু পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়। 

দুর্ঘটনার পর মামলা করতে কয়েক বার চেষ্টা করেন মনোরঞ্জনের মেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মহুয়া হাজং। থানায়ও যান তিনি। কিন্তু মামলা নেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে ১৬ ডিসেম্বর মহুয়ার মামলা নেয় বনানী থানা পুলিশ। কিন্তু সেখানে আসামির নাম ছিল না। পরে তদন্ত করে সাঈদ হাসান সাব্বিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়। 

তবে দুর্ঘটনার পর আসামি প্রাইভেটকারটির চালক সাঈদ হাসান সাব্বির ১৪ ডিসেম্বর এ বিষয়ে রাজধানীর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, মনোরঞ্জন উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে তার প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি ও তার স্ত্রীর ‘প্রাণহানির মতো’ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। উল্টোপথে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য দুর্ঘটনার দায় মনোরঞ্জনের ওপরই বর্তায় বলে দাবি করেছিলেন তিনি।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *