■ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ■
নিজের জীবন বাঁচাতে মাত্র ৫ সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬)। বাসটি ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে কীভাবে নদীর পানিতে ছিটকে পড়লেন, তা তিনি বলতে পারেন না। বেঁচে ফিরতে পেরে শুকরিয়া আদায় করছেন খাইরুল।
খাইরুল ইসলাম খাঁ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। তাঁর দাবি, বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন। এই ঘটনায় বাসচালক আরমান খানের লাশ উদ্ধার হলেও ঘটনার সময় চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার বাইরে থাকায় বেঁচে গেছেন।
গতকাল বুধবার বেলা আড়াইটায় কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহন (রাজবাড়ী ব ১১-০০২৪ নম্বর) যাত্রীবাহী বাসটি খোকসা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর দুজন যাত্রী বাসটিতে ওঠেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানান। বেলা ২টা ৪২ মিনিটে বাসটি আবার যাত্রা শুরু করে।
খাইরুল ইসলাম জানান, তাঁর সিট নম্বর ছিল বি-২। তাঁর পাশের ছিটের যাত্রী সাদা টি-শার্ট পরা যুবক খোকসা স্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে বসেছিলেন। তাঁদের বাসটি ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর পাশের সিটের যুবক নেমে যান। কয়েক মিনিট পর আবার সিটে ফিরে আসেন। খাইরুল তাঁকে বসতে দেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান। এ সময় তাঁদের বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ ঝাঁকুনি লাগে। তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে গিয়ে নদীর পানিতে পড়েন। তাঁর দেখা হাতে গোনা কয়েকজন বাসযাত্রী নদী সাঁতরে ফেরি ও পন্টুনে উঠে জীবন বাঁচিয়েছেন। এ সময় নদী সাঁতরে ডাঙায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গে এক উদ্ধারকারী তাঁর হাতের মোবাইলটি ছিনিয়ে নেন।
খাইরুল জানান, দুর্ঘটনার পর তাঁর পাশের আসনের যুবকের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। তিনি জানান, বাসের প্রায় প্রতিটি সিটেই যাত্রী ছিলেন। প্রত্যেক নারী যাত্রীর সঙ্গে শিশু ছিল। ছিটে বসে থাকা কমপক্ষে ৪০ জন নারী ও শিশু ডুবে যাওয়া বাসের মধ্যে আটকা পড়েছিল। বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন।
খাইরুল একটি টেক্সটাইল মিলের ম্যাশিন ম্যান হিসেবে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। এদিন তিনি কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছিলেন।
সৌহার্দ্য পরিবহনের খোকসার কাউন্টারের মাস্টার রাকিব বিশ্বাস আজকের পত্রিকাকে জানান, বি-১ ও ২ নম্বর আসনের যাত্রীরা খোকসা স্ট্যান্ডের কাউন্টারের যাত্রী ছিলেন। তাঁদের একজন জীবিত ফিরেছেন। অজ্ঞাতপরিচয়ের আরেক বৃদ্ধ যাত্রীও উঠেছিলেন।
রাকিব বিশ্বাসের দাবি, চালককে নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি চালকের আসনেই ছিলেন। বেঁচে ফেরা খাইরুলের সঙ্গে তিনি কথা বলে তা নিশ্চিত হয়েছেন। চালক আরমানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাস ফেরিতে ওঠার আগে সুপারভাইজার সিরিয়ালের জন্য নেমেছিলেন আর হেলপার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের বাড়িও রাজবাড়ী জেলায়। তবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি বলে জানান এই কাউন্টার মাস্টার।
কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি রাজবাড়ী জেলার মালিকাধীন। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে চলে।’ এর বেশি তিনি জানেন না বলে জানান।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়ার শহরের মজমপুর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৬), খোকসা উপজেলার জানিপুর ইউনিয়নের খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের হিমাংশু বিশ্বাসের ছেলে রাজীব বিশ্বাস (২৮), একই উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ইস্রাফিল (৩) ও শমসপুর গ্রামের গিয়াসউদ্দিন রিপনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার (১৩) মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
