মানসিক রোগী সেজে মেয়েদের উত্ত্যক্তকারী সেই তরুণ আটক

 ■ সাভার প্রতিনিধি ■ 

মানসিক রোগী সেজে অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নারীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে খালিদ মাহমুদ হৃদয় খানকে গ্রেফতার করেছে সাভার থানা পুলিশ। সোমবার (১০ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে সাভারের আমিনবাজার থেকে তাকে আটক করা হয় বলে ঢাকা জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এই তরুণ ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নারীবিদ্বেষী নানা কর্মকাণ্ড করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর উত্ত্যক্ত করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সূত্র ধরে খালিদের আইডিতে থাকা বিভিন্ন ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি বিভিন্ন সময় মেয়েশিশু, কিশোরী ও নারীদের পথ আটকে নানা আপত্তিকর কথা বলেছেন। কী ধরনের পোশাক পরা উচিত, সে কথা বলেছেন।

খালিদ মাহমুদ হৃদয় খান থাকেন সাভারে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্কুল–কলেজের মেয়েদের টিজ করেন, হেনস্তা করেন। এর আগে, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ বিষয়ে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাভার মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলন করেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহীনুর কবীর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নারীদের উত্যক্ত করা এবং নারীদের প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির চেষ্টার অপরাধে খালিদ মাহমুদ হৃদয় খানকে আটক করা হয়েছে। আমিনবাজারের মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। তিনি টিকটক করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে নারীদের হেয় প্রতিপন্ন করেছেন।এসবের মাধ্যমে তিনি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন— সমাজে ধর্ষণের জন্য মেয়েরাই দায়ী। খালিদের বিরুদ্ধে মামালার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

একটা ফেসবুক পেজে খালিদ মাহমুদ হৃদয় খানকে দেখা যায়— পাগলের বেশ ধারণ করে বিভিন্ন মেয়েদের হিজাব ছাড়া বের না হওয়ার জন্য তাদের প্রতি অশালীন মন্তব্য করছে। এটা তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং এতে করে সমাজের সব মেয়েদের হেয় করছেন। তিনি আরও বলছেন যে হিজাব না পড়লে ধর্ষিত হবেন এবং তার নারীদের প্রতি মন্তব্য অনেক আপত্তিকর। ভিডিওতে কম বয়সী মেয়েদের প্রতিও তিনি অশালীন মন্তব্য করেন।

অভিযুক্ত যুবকের বক্তব্য হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা বলে বার্তায় উল্লেখ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। তার এ ধরনের কাজের ফলে সমাজে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে, যাতে তিনি দুই মেয়েকে হিন্দু ধর্মের বলেও কটাক্ষ করেন। তার ওই ভিডিওতে দুই কিশোরীকে উদ্দেশ্য করে হিজাব বা বোরকা পরার কথা বলেন। তার এমন অশালীন ও আপত্তিকর বক্তব্য সমাজের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসরত হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ‍্যে বিরোধ সৃস্টির অপচেষ্টা বলছে পুলিশ সদর দপ্তর।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *