■ নাগরিক প্রতিবেদন ■
ঈদুল ফিতর পালনে বাড়ি ফেরা মানুষেরা যানবাহনের তীব্র চাপ ও ঘরমুখী ঢলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।
এর মধ্যেই শুরু হয় কালবৈশাখী আর এর সঙ্গে বৃষ্টি হলো। বুধবার সন্ধ্যার পর এই বৃষ্টি হয়। রাজধানীতে তিন ঘণ্টায় ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বিকেল থেকেই আজ রাজধানীর আকাশ মেঘলা ছিল। সন্ধ্যা থেকে ঠান্ডা হাওয়া বয়ে যেতে শুরু করে। কয়েক দিনের বৃষ্টিহীন রাজধানীর সড়কের ধুলা তাতে উড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকেই হাওয়া বেড়ে যায়। কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। সাতটার পর থেকে বজ্রপাতের সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি পড়তে শুরু করে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টি হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আজ রাজধানীতে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটা কালবৈশাখীর সময়। এখন এ ধরনের বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া স্বাভাবিক।
আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলেছে, এ মাসে একাধিক কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দু–একটি তীব্র ঝড় হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল গড়াতেই শিল্পঅধ্যুষিত গাজীপুরের কয়েকশত শিল্প কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটি পেয়েই কর্মজীবী এসব মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছে।
গাজীপুরের ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনাল এলাকায় বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সড়কে নেমেছে হাজার হাজার যাত্রী। উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার চন্দ্রা এলাকায় যাত্রীর চাপের সাথে সাথে ছোট বড় যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। এতে চন্দ্রা টার্মিনালে যানবাহন প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার কারণে এ সড়কের চন্দ্রা, খাড়াজোড়া থেকে জেলার কোনাবাড়ী উড়ালসড়ক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ৬ কিলোমিটার সড়কে নজিরবিহীন যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছে যানবাহন।
যানজটের ব্যাপারে জানতে নাওজোড় হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাউগাতুল আলমের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কয়েকজন হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এখানে আমাদের কোনো দায়িত্ব নেই। যানজট বেঁধেছে এটা দেখার জন্য অন্য পুলিশ রয়েছে।
এদিকে চন্দ্রা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের পাশে পুলিশ বসে থাকলেও তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না সড়কে। কয়েকটি পয়েন্টে দিনভর পুলিশ থাকলেও বর্তমানে তাদের উপস্থিতি না থাকার মতো।
