নিজেকে নির্দোষ ও দেশের প্রেসিডেন্ট বললেন মাদুরো

■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে উপস্থিত হয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ও দেশের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন নিকোলাস মাদুরো। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১ মিনিটে তাঁকে আদালতের এজলাসে নিয়ে আসা হয়।

এ সময় তাঁর পরনে ছিল কয়েদিদের জন্য নির্ধারিত নীল রঙের ইউনিফর্ম। আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর আইনজীবী ব্যারি পোলাকের সঙ্গে হাত মেলান এবং শান্তভাবে নির্ধারিত আসনে বসেন।

মাদুরোর পরপরই তাঁর স্ত্রী সিলিমা ফ্লোরেসকেও এজলাসে নিয়ে আসা হয়। আদালতের কার্যক্রম শোনার জন্য তাঁরা দুজনেই দোভাষীর সাহায্য নিতে হেডসেট ব্যবহার করেন। ঠিক ১২টা ৩ মিনিটে ৯২ বছর বয়সী বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টাইন বিচারকের আসনে বসেন।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক মাদুরোকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তিনি এখনো তাঁর বিরুদ্ধে করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পড়েননি এবং তাঁকে তাঁর অধিকার সম্পর্কেও জানানো হয়নি।

দোভাষীর মাধ্যমে মাদুরো বিচারককে বলেন, ‘আমি এই অধিকারগুলো সম্পর্কে জানতাম না। মহামান্য বিচারক, আপনিই এখন আমাকে এসব বিষয়ে অবহিত করছেন।’

জবাবে বিচারক হেলারস্টাইন বলেন, ‘জনাব মাদুরোর পক্ষ থেকে দোষী নন পিটিশন দাখিল করা হবে।’

এরপর দ্বিতীয়বার যখন মাদুরোর কাছে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ‘আমি নির্দোষ। এখানে যা যা উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনোটির জন্যই আমি অপরাধী নই। আমি একজন ভদ্রলোক এবং আমার দেশের (ভেনেজুয়েলা) প্রেসিডেন্ট।’

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে মাদুরোক হেলিকপ্টার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হচ্ছে। ওই সময় তার হাতে হাতকরা ছিল। ফলে তিনি হেলিকপ্টার থেকে নামতে পারছিলেন না। ফলে তাকে অনেকটা টেনে নামানো হয়।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে করা মামলার বিচার করবেন ৯২ বছর বয়সী বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টেইন।

এদিকে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বোন্ডি মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে জানিয়েছিলেন, মাদক সন্ত্রাস ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক ডিভাইস রাখার দায়ে তার বিচার করা হবে।

তিনি ওইদিন বলেন, নিউইয়র্কের দক্ষিণ ডিস্ট্রিক আদালতে ইতিমধ্যে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পাম বোন্ডি এক্সে বলেন, “মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম (ডিভাইস) রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহারের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ আনা হয়েছে।”

বোন্ডি আরও বলেন, “খুব শিগগিরই তাদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, মার্কিন আদালতে আমেরিকান কঠোর বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।”

তবে মাদুরোর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

মাদুরোর হয়ে লড়বেন অ্যাসাঞ্জকে কারামুক্ত করা সেই আইনজীবী

নিউইয়র্কের আদালতে নিকোলাস মাদুরোর পক্ষে লড়বেন ওয়াশিংটন ডিসির প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারি জে. পোলাক। ব্যারি পোলাক এমন একজন আইনজীবী, যিনি দীর্ঘ ১৪ বছরের আইনি লড়াই শেষে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে মার্কিন কারাদণ্ড থেকে মুক্ত করতে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যারি জে. পোলাক ওয়াশিংটন ভিত্তিক ল ফার্ম ‘হ্যারিস সেন্ট লরেন্ট অ্যান্ড ওয়েসলার’-এর একজন অংশীদার। উচ্চপর্যায়ের ফৌজদারি অপরাধ ও স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক মামলার বিচারে তাঁর অগাধ খ্যাতি রয়েছে। তাঁর ক্যারিয়ারের কয়েকটি মাইলফলক মামলা হলো-২০২৪ সালে মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘প্লি এগ্রিমেন্ট’ বা স্বীকারোক্তি চুক্তির মাধ্যমে অ্যাসাঞ্জের মুক্তি। এর মাধ্যমে এক যুগ পর অ্যাসাঞ্জ নিজ দেশ অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার সুযোগ পান।

২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এনরনের পতনের পর দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত মাইকেল ক্রাটজকে নির্দোষ প্রমাণ করে খালাস পাইয়ে দিয়েছিলেন এই ব্যারি জে. পোলাক।

বাবা-মাকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগে ১৭ বছর কারাগারে কাটানো মার্টিন ট্যাঙ্কলিফ নামে এক ব্যক্তিকে নির্দোষ প্রমাণ করেছিলেন ব্যারি। পরবর্তীতে এই অন্যায়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাষ্ট্রকে ১৩.৪ মিলিয়ন ডলার দিতে বাধ্য করেন।

আইন বিশ্লেষকেরা বলছেন, ব্যারি পোলাক এমন একজন আইনজীবী যিনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিস্ময়কর ফলাফল দিতে পারেন। মাদুরোর মামলায় তাঁর প্রধান অস্ত্র হবে ‘আন্তর্জাতিক আইনি সীমা’। তিনি দাবি করবেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেভাবে অন্য একটি দেশে হানা দিয়ে প্রেসিডেন্টকে তুলে এনেছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

তবে তাঁর সামনে বড় বাধা হলো—মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে ‘রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়মুক্তি’র দাবি আদালত কতটা গ্রহণ করবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

উল্লেখ্য, মাদুরো ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে আনা মাদক ও সন্ত্রাসবাদের মামলায় সাজা হলে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *