■ বগুড়া প্রতিনিধি ■
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ও জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার তৌফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান বলেন, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় নানা অসংগতি রয়েছে। তিনি হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কোনো তথ্য দেননি। হলফনামায় যে এফিডেভিট দিয়েছেন তা সম্পাদনের এক দিন পর তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল করেননি। এসব অসংগতির কারণে তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমান মান্না আপিল করতে পারবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় মাহমুদুর রহমান মান্নার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার। তিনি বলেন, নোটারি পাবলিকে এফিডেভিট সম্পাদনের দিনই মাহমুদুর রহমান মান্না স্বাক্ষর করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী একজন প্রার্থীর পক্ষে উপস্থিত নেতা–কর্মীদের চাপে পড়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন এবং নিশ্চিত প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। ইসি আপিল নিষ্পত্তি করবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর ঋণখেলাপি তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম অন্তর্ভুক্তের কার্যক্রম আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আইনত কোনো বাধা নেই বলে জানান তাঁর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব।
আফাকু কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডের অংশীদার মান্না। এই কোল্ডস্টোরেজের নামে ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া শাখা থেকে নেওয়া ঋণ ঘিরে সিআইবি প্রতিবেদনে নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে মান্না হাইকোর্টে রিট করেন। কারণ, ঋণখেলাপি হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকে না।
শুক্রবার সকাল থেকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে আপিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মীর শাহে আলম, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জামাল উদ্দিন।
