শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তরুণ নিহত

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■ 

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে রাকিবুল ইসলাম (২৫) নামের এক তরুণ মারা গেছেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শাহবাগ থানা-পুলিশ জানায়, রাত সোয়া নয়টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন রাকিব। এ সময় তিন-চারজন যুবক তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে এবং মাথায় গুলি করে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে রাকিবকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির বলেন, গুরুতর আহত রাকিবকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। পরে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহত রাকিবের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

রাকিব ভোলা সদর উপজেলার চৌমুহনী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম তারিকুল ইসলাম খোকন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী। পরিবার নিয়ে রাজধানীর নিমতলী নাজিম উদ্দিন রোড এলাকায় থাকতেন। তিনি বোরহান উদ্দিন কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

রাকিবুল ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে আসা জি এম ইশান নামের এক তরুণ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, রাতে তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে শহীদ মিনারের পাশে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ কয়েকটি গুলির শব্দ পান। এগিয়ে গিয়ে দেখেন রাকিবুল ইসলাম রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। এরপর দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁরা। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিহত রাকিবুল ইসলামের বন্ধু মো. রনি বলেন, ‘রাতে রাকিবসহ আমরা কয়েকজন বন্ধু শহীদ মিনারের পাশে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। এ সময় এক যুবক তাঁকে ডেকে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ পেয়ে শহীদ মিনারের ওপরে গিয়ে দেখি রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। এ ছাড়া শরীরের একাধিক জায়গায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এরপর সেখানে থাকা লোকজন দৌড়ে একজনকে ধরে ফেলে। সে শাহবাগ থানা হেফাজতে রয়েছে।’

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *