■ কক্সবাজার প্রতিনিধি ■
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টা ২০ এর দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।
দগ্ধদের প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ৮ জনকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। গ্যাস পাম্পটির আশপাশের এলাকায় রেড় অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুই-তিন আগে চালু হওয়া গ্যাস পাম্পটিতে আজ সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে গ্যাস লাইনে লিকেজ দেখা দেয়। পরে রাত ১০টার দিকে আগুন ধরে তা মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্প সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস রাত সাড়ে ১২টায় বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে। আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের আদর্শগ্রামের টিঅ্যান্ডটি টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে চন্দ্রিমা হাউজিং সোসাইটিতে প্রবেশের মুখে অবস্থিত। এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার পরিবহনগুলো শহরে প্রবেশ করে। গ্যাস পাম্পের আশপাশে রয়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি। কিছুটা দূরে (পশ্চিমে) কলাতলী হোটেল–মোটেল জোন, সেখানে রয়েছে দুই শতাধিক বহুতল ভবনের হোটেল-রেস্তোরাঁ। আর পূর্ব পাশে রয়েছে পুলিশ লাইনস, জেলা কারাগারসহ একাধিক আবাসিক ভবন। গ্যাসপাম্প থেকে ছড়ানো আগুন রাত ১১টার মধ্যে কলাতলী-আদর্শগ্রামসহ দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে আশপাশের বাসিন্দারা এদিন–ওদিক ছুটতে থাকেন। নারীরা আশ্রয় নেন পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায়।
পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে তা বন্ধ করেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। পরবর্তী সময়ে সেই আগুন চারদিকে ছড়াতে থাকে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কয়েক দিন আগে চালু করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে গেলে কর্মচারীরা তা নিভিয়ে ফেলেন। এরপর ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস ছেড়ে দেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই গ্যাস ট্যাংকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে ট্যাংকে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।
মুকিম খান বলেন, আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাত আটটা থেকে বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ থাকায় কলাতলী হোটেল–মোটেল জোন এলাকার অন্তত দুই শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ অন্ধকারে রয়েছে।
