■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
প্রখ্যাত ইসলামিক বক্তা পীরজাদা মাওলানা মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। গুলিস্তান পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা হিসেবে মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী খ্যাতি লাভ করেছিলেন। কুরআন-সুন্নাহর আলো ছড়িয়ে দিতে ও সমাজ সংস্কারে তিনি সারাদেশে ওয়াজ নসিহত করতেন।
যুক্তিবাদীর প্রথম নামাজে জানাজা বাদ আসর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলাম প্রচারক ও ইসলামি বক্তা আলহাজ মাওলানা মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী। তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের নিকট একটি পরিচিত মুখ। তিনি ১৯৪৭ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও থানার বারুদী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা ছারছীনা দরবার শরিফের পির আল্লামা নেছার উদ্দীন সাহেবের খলিফা মাওলানা মীর মনিরুদ্দীন।
নিজ গ্রামেই প্রাথমিক লেখাপড়া শুরু করে একই গ্রামে নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৩ সালে দাখিল ও ১৯৬৫ সালে আলিম পাস করেন। ১৯৬৭ সালে ফাজিল পাশ করেন নারায়ণগঞ্জ কামিল মাদরাসা থেকে। এরপর উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রাচীন মাদ্রাসা সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা থেকে কামিল প্রথম বিভাগে পাশ করে একাডেমিক শিক্ষাজীবন শেষ করেন।
মাওলানা মীর হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী বাংলার আলোড়িত ও আলোচিত মুখ। গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের অলি-গলিতেও তার সুললিত কণ্ঠের আওয়াজ শোনা যায়। তিনি কোরআন, হাদিস, নবি, সাহাবি ও আওলিয়াদের জীবনী তার সুললিত ও দরাজ কণ্ঠে বয়ান করেন। শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি ধর্মীয় আলোচনার প্রসার ঘটিয়েছেন। তিনি ইসলাম প্রচারে লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বহুবার সফর করেছেন।
মাওলানা মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী ওয়াজ মাহফিলের হাজারো ব্যস্ততার মাঝে বেশ কয়েকটি বই রচনা করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ইসলামে নারীর মর্যাদা, ধর্ম ও ইবাদত, মুক্তির সহজ পথ, রাসুলে খোদা (স), মক্কাতে রাসুল (স), মদিনাতে রাসুল (স), শানে রাসুল (স)।
মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী এখনো নিরলসভাবে ইসলামের খেদমত করে গেছেন। এখনো ওয়াজ মাহফিলে তার আলোচনা শুনতে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন। তিনি যুক্তিনির্ভর আলোচনা করেন বলে মানুষের কাছে যুক্তিবাদী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমরা তার পরকালীন জীবনের শান্তি কামনা করি।
