যুদ্ধাহত মোজতবা খামেনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন

নাগরিক নিউজ ডেস্ক

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের কারণে আঘাত পেলেও নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্টের ছেলে এবং সরকারি উপদেষ্টা ইউসুফ পেজেশকিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রথম দিনেই ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, হামলায় তাঁর এক পায়ের হাড়ে চিড় ধরেছে (ফ্র্যাকচার)। তিনি মুখমণ্ডলেও আঘাত পেয়েছেন।

পায়ে ফ্র্যাকচার ছাড়াও মোজতবা খামেনির বাম চোখের চারপাশে কালশিটে পড়ে গিয়েছিল এবং তাঁর মুখমণ্ডলে কিছু ছোটখাটো ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এর আগে ইসরায়েলি একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছিল, গত সপ্তাহে এক হত্যা চেষ্টায় মোজতবা খামেনি আহত হন। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন করা হলেও এখন পর্যন্ত তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এমনকি নিয়োগের পর থেকে তাঁর কোনো নতুন বক্তব্যও শোনা যায়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমসহ অন্যান্য প্রচারমাধ্যমগুলো মোজতবার পুরোনো ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-জেনারেটেড ছবিও ব্যবহার করছে।

বুধবার নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক পোস্টে ইউসুফ পেজেশকিয়ান লিখেছেন, ‘আমি শুনেছি যে জনাব মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। এ নিয়ে আমি কিছু বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করি, যাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহলের যোগাযোগ আছে। তাঁরা আমাকে বলেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মোজতবা খামেনিকে (৫৬) ‘রমজান যুদ্ধের আহত একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করলেও তার আঘাতের ধরন সম্পর্কে কখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন খামেনির স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। তিন দিন আগে তিনি তাঁর প্রয়াত বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই খামেনি আহত হন। প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা তিন ইরানি ও দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণ ও বিজয় নিয়ে মন্তব্যে নারাজ ট্রাম্প

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির অভিষেক এবং এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, যদি আয়াতুল্লাহর ছেলেই সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বহাল থাকেন, তবে কি তিনি এই যুদ্ধে বিজয় ঘোষণা করতে পারবেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমি কোনো মন্তব্য করব না।’

সরাসরি কিছু না বললেও এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নির্বাচিত হওয়াকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ক্ষমতার পরিবর্তন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রেসিডেন্টের নীরবতা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শেষ করতে সামরিকভাবে আর কী করা প্রয়োজন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন যা চলছে, তার চেয়েও বেশি কিছু হবে।’ তিনি ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং নেতৃত্বের বিশাল ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা এখনো কিছু জিনিস (অবকাঠামো) বাকি রেখেছি। আমরা যদি সেগুলো ধ্বংস করতে চাই, তবে আজকের বিকেলের মধ্যেই বা মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তা সম্ভব। আর সেটি করা হলে তারা আক্ষরিক অর্থেই ওই দেশটিকে আর কখনোই পুনর্গঠন করতে পারবে না।’

চলমান সামরিক অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে ট্রাম্প ভবিষ্যতে আরও বড় হামলার আভাস দেন। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে যেকোনো দেশের তুলনায় আমরা তাদের ওপর বেশি শক্তভাবে আঘাত হেনেছি এবং আমরা এখানেই থেমে নেই। আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ইতিমধ্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো হারিয়েছে বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *