■ নওগাঁ প্রতিনিধি ■
টিকিটবিহীন এক যাত্রীর বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে বাসচালককে ডেকে নিয়ে মারধর ও ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নওগাঁর সাপাহার সার্কেল অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনে ধানসুরা যাওয়ার পথে বাসচালক ও সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্কে জড়ান শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী জয়ন্ত বর্মণ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীগামী হিমাচল পরিবহনের একটি বাস রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাপাহার থেকে ছেড়ে যায়। ওই বাসে যাত্রী হয়ে ধানসুরা নামার উদ্দেশ্যে উঠেছিলেন শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী জয়ন্ত বর্মণ। টিকিট না থাকায় জয়ন্ত বর্মণ যে সিটে বসেছিলেন সেটি থেকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার সিয়াম। ওই সময় নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে হুমকি দিতে শুরু করেন জয়ন্ত।
একপর্যায়ে চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় তিনি। এরপর নির্ধারিত গন্তব্য ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান জয়ন্ত বর্মণ। পরবর্তীকালে রাত ১০টার দিকে হিমাচল পরিবহনের ওই বাস পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেন শ্যামলী রানী বর্মণ। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাসচালক বাদলের পেটে প্রথমেই সজোরে লাথি দেন শ্যামলী।
এরপর বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন স্বামী জয়ন্ত বর্মণ। পরে শ্যামলী রানী বর্মণের নির্দেশে তাঁর দেহরক্ষী আনন্দ বর্মণ এসএস পাইপ দিয়ে চালককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। আহত অবস্থায় বাদল জ্ঞান হারালে সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে পরের দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল।
ভুক্তভোগী বাসচালক বাদল বলেন, ‘এএসপি (শ্যামলী রানী বর্মণ) ম্যাডাম ও ওনার স্বামী (জয়ন্ত বর্মণ) আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে গরু পেটানোর মতো পিটিয়েছেন। শরীরের গোপন জায়গায় মেরেছেন। উনি (শ্যামলী রানী বর্মণ) বডিগার্ডকে বললেন, মাইরা হাত-পা ভেঙে দে। তারপর বডিগার্ড আমাকে এসএস পাইপ দিয়ে ইচ্ছেমতো পিটিয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ বলেন, ‘ড্রাইভার ও সুপারভাইজারকে রাতে অফিসে ডাকা হয়েছিল। ড্রাইভার এসে সরি বললেও সুপারভাইজার আসেনি। পরে মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। কাউকে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।’
