এনসিপির নারী শাখা ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আত্মপ্রকাশ

■ নাগরিক প্রতিবেদন 

এনসিপির নারী শাখা ‘জাতীয় নারীশক্তি’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে মনিরা শারমিন, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদা মিতু এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় নতুন এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়। 
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারীদের লক্ষ্য করে অনলাইনে বুলিং প্রবণতা অনেক বেড়েছে। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির কারণে ছাত্র আন্দোলনের অনেক নারীই রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তা হলো– জুলাই আন্দোলনের সেই নারীরা এখন কোথায়? যারা রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে ছিলেন, পরবর্তী সময়ে রাজনীতির মাঠে তাদের সেই হারে দেখা যাচ্ছে না কেন? সারাদেশের জুলাইয়ের যেসব কণ্ঠস্বর, নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গেছে। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। জাতীয় নারী শক্তি সেই চেষ্টা করবে। তারা রাজনীতি করুক বা না করুক, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত বছর এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি, তখন আন্দোলনকারী সেসব নারী ও বোনদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাদের মাঝে পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও নানা পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার কারণে তা পেরে ওঠেননি।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যে কোনো নির্বাচনের পরেই হঠাৎ করে যেন নারীদের প্রতি সহিংসতা বেড়ে যায়। সাইবার জগতের বিষাক্ত প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে, এনসিপির একজন নারীকর্মী নির্বাচনের আগে আত্মহত্যায় বাধ্য হন। 

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করে বৈষম্যহীন সমাজ এবং নারী অধিকার এবং ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় নারী শক্তি কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

মুক্তিযুদ্ধ থেকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান, দেশের সবগুলো বড় রাজনৈতিক সংগ্রামে নারীদের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা থাকলেও নারীদেরই সেই সংগ্রামগুলোর সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যবস্ত করা হয় বলেও আক্ষেপ করেন নাহিদ।

তিনি বলেন, “আজকে নারী দিবসে জুলাই পরবর্তী সময় একটা প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি শুনতে হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়; যে আসলে জুলাইয়ের নারীরা কোথায় এবং জুলাই নারীরা যেই ব্যাপকভাবে আন্দোলনে ছিল সেই একইভাবে তারা আসলে রাজপথে পরবর্তীতে ছিল না কেন?

“এর দায় আসলে আন্দোলনের নেতৃত্ব হিসাবে আমাদের কতটুকু? আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের আসলে কতটুকু? এখানে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমরা জানি তো জুলাই গণঅবত্থান পরবর্তী সময়ের বাস্তবতা এটাই যে যেই বোনেরা যে মেয়েরা রাজপথে নেমে এসেছিল তারা রাজনীতিতে সবাই অংশগ্রহণ করে নাই। ম্যাক্সিমামই আমরা তাদেরকে হারিয়ে ফেলেছি।”

নির্বাচনি ইশতেহারে নারীর অধিকার রক্ষায় দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাহিদ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, মনিরা শারমিন, মাহমুদা মিতু, নুসরাত তাবাসসুমসহ এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নারী নেতারা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *