■ নাগরিক নিউজ ডেস্ক ■
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারাগারটি এর আগে ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং পি ডিডির মতো বন্দিদের রাখার জন্য আলোচনায় এসেছিল।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয় মাদুরোকে। সেখান থেকে ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার আগে তাকে নিউইয়র্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ডিইএ) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মাদুরো আগে থেকেই কোনো ধরনের মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হবে। তবে তাদের আদালতে তোলার সুনির্দিষ্ট তারিখটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
আগামী সপ্তাহে ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে ‘এমডিসি’ মাদক ও অস্ত্র মামলার মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে এই কারাগারেই রাখা হবে। তবে মাদুরোর স্ত্রীর বর্তমান অবস্থা বা তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক সিটির একমাত্র ফেডারেল কারাগার হিসেবে পরিচিত এই ‘এমডিসি’। হাই-প্রোফাইল বন্দিদের রাখার কারণে এটি প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে আসে।
এই কারাগারটির বন্দিদের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হিসেবেও পরিচিত। নোংরা পরিবেশ, চরম সহিংসতা এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলার বহু অভিযোগ রয়েছে এই ডিটেনশন সেন্টারের বিরুদ্ধে। এমনকি এক বন্দিকে কয়েকবার ছুরিকাঘাত করার পর চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো ২৫ দিন নির্জন সেলে আটকে রাখার মতো অমানবিক অভিযোগও রয়েছে এই কারাগার নিয়ে।
এর আগে, ১৯৯০-এর দশকে নির্মিত এই কারাগারে রাখা হয়েছিল গায়ক আর. কেলি, ফার্মা ব্রো, মার্টিন শ্রেকলি, সমাজকর্মী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিস্ময়বালক স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রাইড এবং সংগীত জগতের তারকা শন ডিডি কম্বসকে। সন্দেহভাজন সিনালোয়া কার্টেল নেতা ইসমাইল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা গার্সিয়াকেও হত্যা ও মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারাধীন সময়ে সেখানে আটক রাখা হয়েছিল।
সংগীত তারকা কম্বসের আইনজীবী ২০২৪ সালের শেষের দিকে আদালতে বলেন, এই কারাগারের পরিবেশ একজন বন্দির জন্য অত্যন্ত কঠিন জায়গা, সেখানে রাখা হলে তার মক্কেলের পক্ষে বিচারের প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন।
এই কারাগারে সহিংসতা নিয়েও আতঙ্কে থাকেন বন্দিরা। ২০২৪ সালের জুনে এক বন্দি ছুরিকাঘাতে নিহত হন এবং এর এক মাস পরেই আরেকজন বন্দি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মৃত্যুবরণ করেন।
২০১৯ সালে এক মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে এক সপ্তাহ ধরে বন্দিরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে এবং প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে অমানবিক জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছিলেন।
এই বিষয়ে বিচার বিভাগ তদন্ত শুরু করলে ক্ষতিগ্রস্ত ১,৬০০ বন্দির জন্য ১ কোটি ডলার দিতে রাজি হয় কারা কর্তৃপক্ষ।
বন্দিদের পক্ষে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, তাদের কয়েক দিন ধরে সেলে আটকে রেখে নষ্ট টয়লেটসহ অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছিল।
২০১৯ সালে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন ম্যানহাটনের কারাগারে আত্মহত্যা করার পর থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এমডিসি নিউ ইয়র্ক সিটির একমাত্র ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টার।
