■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
সিন্ডিকেটের চাপে ব্যবসা বন্ধ করে বিদেশ চলে যাচ্ছেন নবীন পাঞ্জাবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে তিনি নিজেই ফেসবুকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পোস্টে এনামুল হাসান নবীন লিখেছেন, ‘সিংহের মতো বাঁচতে চাই। কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ।’ তবে, কোন দেশে যাচ্ছেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
এদিন বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এনামুল নবীন বলেন, আমাদের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয় যে, ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাঞ্জাবি বিক্রি করা যাবে না আর ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাজামা বিক্রি করা যাবে না। তারা এই সিন্ডিকেট সবসময় নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তবে আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা। এর কারণে যদি আমাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাহলে আমরা ব্যবসা বন্ধ করে দেব। আমি আবার প্রবাসে ফিরে যাব। আমার মনে হয় বাংলাদেশে ব্যবসা করা হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের ফোন দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে যে, সব শোরুম বন্ধ করে দেব যদি ভিডিও ডিলিট না করো। আমরা তো ভিডিও করিনি, আমাদের এক গ্রাহক ভিডিও করে ফেসবুকে দিয়েছে, সেখান থেকে সংবাদকর্মীরা ভিডিওগুলো নিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় সম্পূর্ণ গরিব, দুঃখী, অসহায়দের মাঝে আমরা বিতরণ করে থাকি। ব্যবসার লাভ্যাংশ দিয়ে আমরা গরিব, দুঃখী, অসহায়দের খাবার বিতরণ করে থাকি। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থাকি। তারপর থেকে আমরা সবসময় মিডিয়ার আড়ালেই থেকেছি। কখনোই সামনে আসিনি।
নবীনের মালিক আরও বলেন, আমরা ৩০০ টাকায় পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি করি। এ ছাড়া আমাদের বিভিন্ন মূল্যের প্রোডাক্ট আছে যেটা বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক কম। কারণ আমাদের প্রোডাকশন কস্ট কম। আমাদের কোম্পানিতে প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, আগে মাদকাসক্ত ছিলেন এখন ভালো হয়ে গেছেন এমন লোক এখানে কাজ করেন।
তিনি বলেন, আমরা অনেক বাধা উপেক্ষা করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। আমাদের সরকার সহযোগিতা করবে এই প্রত্যাশা আমরা সবসময় করি, কিন্তু আমাদের মতো ব্যবসায়ীরা কখনই সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পায়নি। সহযোগিতা পায় সিন্ডিকেটরা, বড় বড় ব্যবসায়ীরা, যারা বড় অঙ্কের লোন নেয় ব্যাংক থেকে, নিয়ে ঋণখেলাপি হয়। আমরা জনগণের জন্য যদি কিছু করতে চাই সেক্ষেত্রে আমাদের একটা ভয়-ভীতি দেখানো হয়।
এ সময় সিন্ডিকেটের নির্যাতনে ব্যবসা বন্ধ করে বিদেশ চলে যাওয়ার ঘোষণা দেন এনামুল হাসান নবীন।
ঈদুল ফিতরের একদিন আগে অর্থাৎ ২০ মার্চ হওয়া এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়, পাশের দোকান প্রিন্সের মালিক মাইকেলসহ কয়েকজনও রয়েছেন সেখানে।
ভুক্তভোগী নবীন ফ্যাশনের অভিযোগ, পুলিশের সহযোগিতায় দোকান বন্ধ করে দেয় পাশের দোকানদার মাইকেল।
এসময় তিনি অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী দোকানদার মাইকেল প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু পরিচয়ে প্রভাব খাটান। ঘটনার সময় হাতিরঝিল থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো পুলিশের উপস্থিতিতে দোকান বন্ধ করা হয় বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকে একাধিক মোবাইল নাম্বার থেকে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনামুল হাসান বলেন, ব্যবসা করতে গিয়ে জীবন দিতে চান না তিনি। সমস্যার সমাধান না হলে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার কথাও বলেন নবীন।
এ বিষয়ে জানতে হাতিরঝিল থানার গেলেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজাকে পাওয়া যায়নি। পরে, ওসির সরকারি মোবাইল নাম্বারে কল করলে হাতিরঝিল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ওই কল রিসিভ করে বলেন, ওসি স্যার ছুটিতে আছেন।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, কারও দোকান বন্ধ বা খোলা পুলিশের কাজ নয়। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে দায়িত্বশীলদের কাছে জানালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
