সংসদের চিফ হুইপ হলেন নুরুল ইসলাম মনি

নাগরিক প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ হিসেবে বরগুনা-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলার সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ হুইপ অধ্যাদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৩(১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের জন্য চিফ হুইপ ও হুইপদের নিয়োগ প্রদান করেছেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের দায়িত্ব অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

চিফ হুইপের পাশাপাশি আরও ছয়জন সংসদ সদস্যকে হুইপ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—

জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত হুইপদের তালিকা (ত্রয়োদশ সংসদ)

ক্রমিকনামনির্বাচনী এলাকা আসন নম্বর
আলহাজ মো. জি কে গউছহবিগঞ্জ-৩২৪১
রফিকুল ইসলাম বকুলখুলনা-৩১০১
মিয়া নুরউদ্দিন আহমেদ অপুশরীয়তপুর-৩২২৩
এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুনাটোর-২৫৯
মো. আখতারুজ্জামান মিয়াদিনাজপুর-৪
এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানলক্ষ্মীপুর-৪২৭৭

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। আগামী ১২ মার্চ নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।

সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই চিফ হুইপ ও হুইপদের নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও সরকারি দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বয় সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চিফ হুইপ ও হুইপগণ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, আইন পাসের ক্ষেত্রে দলীয় অবস্থান সমন্বয় এবং সংসদীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। সংবিধান অনুসারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন।

উল্লেখ্য, নুরুল ইসলাম মনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যন। তিনি ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে মোট তিন বার বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বরগুনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নুরুল ইসলাম মনি ১৯৫২ সালে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার মনিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএসসি পাস করেন। পরের বছর ১৯৭৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসিতে ফার্স্ট ক্লাস সহ পাস করেন।

নুরুল ইসলাম মনি ১৯৮৮ সালের ৪র্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে এরশাদ সরকারের পতন হলে ১৯৯০ সালে সংসদ ভেঙে যায়। পরে ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নুরুল ইসলাম মনি আবারো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তিনি সে নির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। পরবর্তীতে তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বাচনের পর তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতিও নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রয়ারির ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করেননি। পরে ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *