ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■  

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং এর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তারা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। 

এর পর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ নির্বাচন কমিশনারগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর যথাক্রমে তিনবাহিনীর সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ -জামান, নৌ বাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান  ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও বিদেশী সংস্থার প্রধানরা শ্রদ্ধা জানান।

এরপর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

পরে একে একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে

এদিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো শহীদ মিনার এলাকা।

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের বরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। শহীদ মিনারে প্রবেশের প্রতিটি সড়কে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন বাহিনীর কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। শিল্পীর রং তুলিতে সাজানো হয়েছে শহীদ মিনারের আশেপাশের সবগুলো সড়ক। দেখে মনে হয়, নতুন রূপে সেজেছে শহীদ মিনার।

এদিকে, দুপুরের পর থেকে শহীদ মিনারের এ নতুন রূপ দেখতে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ নগরীর আশ-পাশের বাসিন্দারা। সন্ধ্যা সাতটার পরে ধীরে ধীরে উৎসুক মানুষদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আগামীকাল শনিবার। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হবে এ দিন। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। শহীদ মিনারের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। আজ শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন বিকালে সরজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শহীদ মিনারের নতুন রূপ দেখতে আসেন বাসিন্দারা। কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ এসেছেন সঙ্গীকে নিয়ে। শহীদ মিনারের চারপাশে থাকা বাঁশের বেড়ার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন তারা। রাস্তার ডিভাইডারে লাগানো হইছে নতুন ফুল গাছ। উৎসুক লোকজন নানা ভঙ্গিতে ছবি তুলছেন।

সন্ধ্যার পরে, দোয়েল চত্বর মোড়, ঢাকা ঢাকা মেডিকেল কলেজ, জগন্নাথ হলের মোড় ও শিববাড়ি মন্দির মোড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী বিজিবি ছাড়াও সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হতে থাকে।

সন্ধ্যার পর ধীরে ধীরে ভাসমান লোকজন ও হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হতে থাকে। রাত পৌনে ৮টার দিকে ভেতরে ঢুকতে খুব কড়াকড়ি আটক করা হয়। যাদের কাছে অমর একুশের নিরাপত্তা পাশ রয়েছে শুধুমাত্র তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলছেন, মহান শহীদ দিবসে ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ব্যাপক লোক সমাগম হবে। এই উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়ন থাকবে। শৃঙ্খলা ও শহীদ মিনারের পবিত্রতা বজায় রেখে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বসাধরণকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মিছিলে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নির্দেশে পুলিশের গুলি চালায় পুলিশ। প্রাণ হারান সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। এরপর বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *