দিপু চন্দ্রের মরদেহ পোড়ানোর নির্দেশদাতা গ্রেফতার

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশদাতা ইয়াছিন আরাফাতকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। 

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ।

গ্রেফতার ইয়াছিন আরাফাত ভালুকার দক্ষিণ হবিরবাড়ি এলাকার গাজী মিয়ার ছেলে। তিনি পার্শ্ববর্তী কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কোরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

হত্যাকাণ্ডের সময় ফ্যাক্টরির গেটে স্লোগান দিয়ে লোকজন জড়ো করে দিপুকে হত্যার পর রশি দিয়ে দিপুকে টেনেহিঁচড়ে স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় নিয়ে এরপর মরদেহ পোড়ানোর নেতৃত্ব দেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর হত্যার পর ইয়াছিন আরাফাত আত্মগোপনে চলে যান। ১২ দিন পলাতক অবস্থায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। সেখানে তিনি সুফফা মাদ্রাসায় শিক্ষকতার জন্য যোগদান করেন। ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন এই তথ্য জানান।

আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, দিপু চন্দ্র দাস হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ২১ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আসামিদের পুলিশের রিমান্ডে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ৯ জন ১৬৪ ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১৮ ডিসেম্বর দিপু দাসকে হত্যার পর লাশ রশি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরদিন দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জন গ্রেফতার হল।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *