আরসা প্রধান আতাউল্লাহসহ ৬ সদস্য গ্রেফতার

■ নাগরিক প্রতিবেদক ■

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মিয়ানমারের আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীসহ (৪৮) ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

সোমবার দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লী আবাসিক এলাকার ভূমিপল্লী টাওয়ার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে নগদ ২১ লাখ ৩৯ হাজার ১০০ টাকা, একটি ধারালো চাকু ও একটি স্টিলের ধারালো চেইন (ধারালো দাঁতযুক্ত ও দুই পাশে হাতলবিশিষ্ট) উদ্ধার করা হয়েছে।

বাকি গ্রেফতারকৃত হলেন- মোস্তাক আহাম্মদ (৬৬), সলিমুল্লাহ (২৭), মোসা. আসমাউল হোসনা, হাসান (১৫) ও মনিরুজ্জামান (২৪)।

গ্রেফতারকৃতদের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে তাদের বিরুদ্ধে র‌্যাব বাদী হয়ে এফআইআর (নং ২৯) দায়ের করেছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত সদস্যরা নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহে নাশকতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, ধারালো চাকু ও চেইন উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

তিনি বলেন, আরসা প্রধান আতাউল্লাহসহ রোহিঙ্গা ৬ নাগরিককে থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। তাদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা হয়েছে। দুপুরে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করে দুই মামলায় ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা বলেন, আসামিরা নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা আগে নাশকতামূলক অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার জন্য গোপন বৈঠক করে আসছিল। র‌্যাব ও পুলিশ গোপন সংবাদ পায় যে আসামিরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জে ভূমিপল্লি আবাসন এলাকার একটি বহুতল ভবনে গোপন বৈঠক করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে। রিমান্ডে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে, গত ১৬ মার্চ মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার নতুন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরসা প্রধানসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে আজ তাদের নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুদ্দিন কাদিরের আদালতে হাজির করা হয়।

আদালত পুলিশ জানায়, আরসা প্রধানসহ ৬ জনকে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার অপরাধে দুই মামলায় হাজির করা হলে, ৫ দিন করে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

বাকি তিন নারী সদস্য ও এক শিশুকে একই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে আতাউল্লাহর ভাই শাহ আলীকে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে গ্রেপ্তার করে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন)। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার দেওয়ান বাজার এলাকার স্থায়ী ঠিকানায় বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়েছিলেন। রোহীঙ্গা ক্যাম্পে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অপহরণের সঙ্গে আরসার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

২০১৭ সলে ১৫ আগস্ট আরসা বিদ্রোহীরা মিয়ানমারের রাখানে একযোগে ২৪টি পুলিশ পোস্ট এবং ৫৫২তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন সেনা ঘাঁটিতে সমন্বিত আক্রমণ শুরু করে। এতে অন্তত এক ডজন সামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এরপর জান্তা সরকার রাখাইনে একযোগে অভিযান শুরু করে, চালায় গণহত্যা। লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে।

আরসা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনসহ বিভিন্ন অধিকারের কথা বললেও এই সংগঠনকে সমর্থনের বিষয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *