অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী

■ নাগরিক প্রতিবেদন ■

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা -অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। তিনি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছেন।

তিনি দেশবরেণ্য আইনজীবী প্রয়াত মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রফিক উল হক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ, এজে মোহাম্মদ আলী, মাহবুবে আলমের নাম উল্লেখ করেন। বিশিষ্ট এই আইনজ্ঞগণ আইনজীবী হিসেবে এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বেও আইনজীবীদের অভিভাবক ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃত্ব অলংকৃত করেছেন তারা। পাশাপাশি সর্বোচ্চ আদালতের আইন পেশা ও আইন চর্চাকে নিয়ে গেছেন ভিন্নমাত্রায়।

সর্বশেষ অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মো.আসাদুজ্জামানের আইনি লড়াই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে পদত্যাগ করে লাখো ভোটের ব্যবধানে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সরকারের আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে এখন আরও বড় পরিসরে অবদান রাখছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে যারা ইতোপূর্বে দায়িত্ব পালন করেছেন তারই ধারাবাহিকতায় নতুন অ্যাটর্নি জেনারেলের নিয়োগ হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন এ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা পদে নিশ্চয়ই যোগ্য দক্ষ অভিজ্ঞ কাউকে নিয়োগ দিবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি সূত্র জানায়, অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ বিষয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বেশকজন সিনিয়র এডভোকেট, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব হতাশা প্রকাশ করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ গ্রহণযোগ্য না হলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দীর্ঘ লড়াই ও ত্যাগ ম্লান হতে পারে। সমিতির আসন্ন নির্বাচন ও ফোরামের আগামী কার্যক্রমে সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আইনজীবীদের মধ্যে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট দিয়ে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।

অনেক আইনজীবী ফেসবুক পোস্ট তাদের দাবি জানান। এসব পোস্টে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র এডভোকেট ব্যারিস্টার মো.রুহুল কুদ্দুস কাজলকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগে দাবি জানান। তারা তাদের পোস্টে বিগত সময়ে ব্যারিষ্টার মো.রুহুল কুদ্দুস কাজলের সংগ্রাম ও ত্যাগ তুলে ধরেছেন। ব্যারিস্টার রুহুল কাজল এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বারের একাধিকবার সম্পাদক ছিলেন।

ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন। তিনি আইন পেশায় সততা, পেশাদারিত্ব ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিত।

তার পারিবারিক পটভূমিও রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার পিতা ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আব্দুর রউফ চৌধুরী ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ।

শিক্ষাজীবনে রাগীব রউফ চৌধুরী কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং সেখানে দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন।

এর আগে ২৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদটি খালি রয়েছে।

শেয়ার করতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *