■ নাগরিক প্রতিবেদক ■
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল রোববার (২ মার্চ) রোজা শুরু হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আজ ২৯ শাবান ১৪৪৬ হিজরি, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১ মার্চ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এ অবস্থায় আগামীকাল ১৭ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২ মার্চ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ রোববার থেকে ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাস গণনা শুরু হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৬ রমজান ১৪৪৬ হিজরি, ১৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৭ মার্চ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে কদর পালিত হবে।
সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামুল কবীর, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক মো. ফখরুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সহকারী পরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল কবীর, শায়েখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের অধ্যক্ষ মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগামের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ ফারুক, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার উপাধ্যক্ষ আব্দুল গাফফার, দ্বীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ রাতেই (১ মার্চ) তারাবিহর নামাজ পড়বেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। রাতে সেহরি খেয়ে আগামীকাল থেকে রাখবেন রোজা।
মুসলমানদের কাছে রমজান পবিত্র মাস। এই এক মাস সংযম সাধনার পর ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন ধর্মপান মুসলমানরা।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় সৌদি আরবে আজ থেকে রোজা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাতেও আজ থেকে রোজা শুরু হয়েছে। তবে মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামীকাল রোববার থেকে এসব দেশে পবিত্র রোজা শুরু হবে।
রমজান হলো হিজরি সনের নবমতম মাস। হিজরি সনে বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে। রমজানে রোজা রাখা ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি।
এদিকে, পবিত্র রমজান মাসে খতমে তারাবিহ আদায়ের সময় দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে দেশের প্রায় সব মসজিদে খতমে তারাবিহ নামাজে পবিত্র কোরআনের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তিলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু আছে। তবে কোনো কোনো মসজিদে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী কর্মজীবী ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে পবিত্র কোরআন খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না।
এতে আরও বলা হয়, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে একটি অতৃপ্তি ও মানসিক চাপ অনুভূত হয়। পবিত্র কোরআন খতমের পূর্ণ সওয়াব থেকেও তারা বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি নিরসনকল্পে পবিত্র রমজান মাসের প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা করে ৯ পারা এবং বাকি ২১ দিনে ১ পারা করে ২১ পারা তিলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাৎ পবিত্র শবেকদরে পবিত্র কোরআন খতম করা সম্ভব হবে।
দেশের সব মসজিদে খতমে তারাবি নামাজে প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা করে ও পরবর্তী ২১ দিনে এক পারা করে তিলাওয়াতের মাধ্যমে পবিত্র শবেকদরে কোরআন খতমের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন -এর পক্ষ থেকে সারা দেশের সব মসজিদের সম্মানিত খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি, মুসল্লি এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ মাসে মুমিন বান্দার জন্য বিশেষ পুরস্কার হলো ইবাদতের সহজতার জন্য আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে পুরো মাস বন্দি করে রাখেন।
রাসুলে করিম সা. বলেছেন, মাহে রমজান এলে এর প্রথম রাত থেকে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলিত করে রাখা হয়। জাহান্নামের সব কটি দুয়ার রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় পবিত্র জান্নাতের সব কটি দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, ‘হে কল্যাণকামী অনুসন্ধানী! তুমি অনুসন্ধান কর ও এগিয়ে চল। আর অকল্যাণকামী পাপাত্মাদের বলতে থাকেন, তুমি থাম।’ (তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ)।
রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা সুন্নত। এই দশদিনের একদিন মহাপুণ্যময় একটি রাত রয়েছে। রাতটিকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। অনেকের মতে, ২৭ তারিখ রাত লাইলাতুল কদর। কারও কারও মতে শেষ দশদিনের যেকোনো বেজোড় রাত।
রাসুল সা. বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদর’ রমজানের শেষ দশদিনে অনুসন্ধান কর। তাই আমাদেরকে ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ এ রাতগুলো মহিমাময় রাত মনে করে এবাদত করা উচিত।
হাদিসে বলা হয়েছে, ‘হাজার রাতের চাইতে শ্রেষ্ঠ এ পবিত্র রাত লাইলাতুল কদরের রাত পেয়েও যে ব্যক্তি তাকে কাজে লাগাতে, পরিপূর্ণ মর্যাদা দিতে পারল না, বঞ্চিত হলো সে দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণকামী কাজ থেকে। তার মতো দুর্ভাগা কেউ নেই।’ (ইবনে মাজাহ)।